ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সুন্দর পরিবেশের জন্য

সুন্দর পরিবেশের জন্য
×

পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) নতুন সভানেত্রী বেগম জীশান মীর্জার নেতৃত্বে একটি দল আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে

রহমান মৃধা

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২০ | ১২:০০

যুগ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনও বদলেছে। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা বেড়েছে বহু গুণ, বেড়েছে সবকিছুর চাহিদাও। এ কথা সবারই জানা যে, মানুষের সব প্রয়োজন মেটানোর উৎস প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রকৃতি। তবে শিল্প বিপ্লবের কারণে মানুষের চাহিদার আমূল বদল হয়েছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়েছে পরিবেশের ওপর। কারখানায় প্রস্তুত হয় মানুষের নিত্যদিনের সামগ্রী। সেই কারখানার বর্জ্য নিস্কাশন না করে সর্বত্রই ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে মাটি এবং সাগরে। আবার সেই বর্জ্য পুড়িয়ে ক্ষতিকর ধোঁয়া বাতাসেও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন সুবিধার জন্য যে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে তা মাটির ক্ষতি করছে। এভাবে পরিবেশের প্রত্যেকটি উপাদান দূষিত হচ্ছে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে।
এমতাবস্থায় গোটা বিশ্বের মানুষ কমবেশি বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। সুইডেন অন্যান্য দেশের চেয়ে একটু বেশি সচেতন বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, তার প্রমাণ পরিবেশকর্মী গ্রেটা টুনবার্গ। কয়েক মাস ধরে সুইডেনের সব দোকানে প্লাস্টিক ব্যাগের দাম দুই ক্রোনার থেকে সাত ক্রোনার হয়েছে। কাগজের ব্যাগের দাম কিছুটা কম পলিথিনের তুলনায়। বাসা থেকে ব্যাগ না নিয়ে দোকানে গেলেই সাত ক্রোনার দিতে হয় একটি ব্যাগের জন্য। আজ ব্যাগ নিতে ভুলে গেছি। একটি ব্যাগ কিনতেই অল্প বয়সী ক্যাশিয়ার বলল- 'পরিবেশের কথা ভাবো, আর কতদিন পৃথিবীর পরিবেশ ধ্বংস করবে।' বললাম, 'আজ ব্যাগ আনতে ভুলে গেছি, সরি।' সে বকবক করে একগাদা শক্ত কথা শুনিয়ে দিল। এমনকি কোনো একসময় বলে ফেলল- তোমরা যারা অন্যদেশ থেকে এসেছ, পরিবেশের ওপর তোমাদের কোনো রকম রেসপেক্ট নেই। এতক্ষণ মেজাজটা ঠিক ছিল, তবে শেষের কথাগুলো বলতেই একটু চোটে গেলাম। দোকানে ভিড় কম, মেয়েটিকে এক এক করে বলতে শুরু করলাম-
'এই মেয়ে শোনো আমাদের বাড়িতে মা কাঠ দিয়ে রান্না করতেন ছোটবেলা। সেই রান্না করতে যে কাঠ ব্যবহূত হতো, তার অবশিষ্ট যে কয়লা বা ছাই থাকত, তা দিয়ে বাড়িতে কাজের লোক থালাবাসন পরিস্কার করত। কাঠের কয়লা, গাছের ডাল এসব দিয়ে দাঁত ব্রাশ করেছি। কাপড় পরিস্কার করতে ছাই ব্যবহার করতাম। হেঁটে হেঁটে স্কুলে গিয়েছি, গাড়ি বা মোটর চালিয়ে না। টিভি, কম্পিউটার, কেমিক্যাল জিনিসের ব্যবহার খুব কম করেছি। মাঠে গরু দিয়ে চাষ করেছি, কখনও মেশিন ব্যবহার করিনি। ভেবে দেখো আমি যেভাবে আমার জীবনের কুড়িটি বছর কাটিয়েছি, আর তোমার জীবনের কুড়িটি বছর কীভাবে কেটেছে? যেমন তোমার জন্মের শুরুতে তুমি ডায়াপার ব্যবহার করা থেকে শুরু করে সব ধরনের বিলাসিতায় বড় হয়েছে। যার পেছনে জানো কী পরিমাণ কেমিক্যাল ব্যবহার হয়েছে? এখন বলো কে পরিবেশ নষ্ট করেছে, আমি না তুমি?'
আমার কথা চলাকালীন বেশ কিছু লোক জড়ো হয়ে শুনছে। পরে আমাকে অনুরোধ করেছে, আমি যেন সুইডিশ নিউজ পেপারে ঘটনাটি তুলে ধরি। তাদের অনুরোধ রাখতে সবে সুইডিশ ভাষায় লেখাটি শেষ করেছি। ভাবলাম বাংলাতেও বিষয়টি তুলে ধরি, তাই এ লেখা। ওপরের ঘটনাটির পেছনে যে বিষয়টি জড়িত, তা হলো পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ। সে আবার কী এবং ওপরের ঘটনার সঙ্গে পৃথিবীর পরিবেশেরই বা কী সম্পর্ক?
পরিবেশের দূষিত উপাদান আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। সাগরের পানি দূষিত হওয়ায় বিপন্ন অনেক জলজ জীবন। সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা গেছে, মৌমাছির সংখ্যা কমছে আশঙ্কাজনক হারে। পরাগায়ণের মাধ্যমে আমাদের বিপুল পরিমাণ খাদ্য উৎপাদনে মৌমাছির বিকল্প নেই। তাদের এই দুরবস্থা আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। আমরা যদি আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণের ব্যাপারে সচেতন না হই, তাহলে বেশি দিন পৃথিবীতে টিকতে পারব না। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ আজ মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে। দুই পরিবেশকেই সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সচেতন ভালো মানুষের কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের ভালো রাখার জন্য চলুন প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করি, পরিবেশ সুরক্ষা করি।
সাবেক পরিচালক (প্রডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন
[email protected]

আরও পড়ুন

×