ট্রাম্পের 'করোনা শিক্ষা'
সুদীপ্ত সাইফুল
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২০ | ১৪:৪১
'আমি জীবাণুনাশক দেখছি। এটা দিয়ে মাত্র এক মিনিটে ভাইরাস পরিস্কার করা যায়। ফুসফুসের ভেতরে জীবাণুনাশক পুশ করার মাধ্যমে আমরা এ ধরনের কোনো কিছু কি করতে পারি? এই প্রক্রিয়া পরীক্ষা করে দেখলে চমৎকার ফল পাওয়া যেতে পারে।' করোনাভাইরাস নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক এ মন্তব্যটি করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তের পর একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বিশ্বব্যাপী করোনা আলোচনার সঙ্গে জুড়ে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। করোনা সংক্রমণকে কেন্দ্র করে কখনও দোষারোপ, কখনও ব্যঙ্গ-কটাক্ষ, কখনও মিথ্যাচার আবার কখনও প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখেছেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতে করোনাভাইরাসকে 'সাধারণ ফ্লু'র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। পরেও তেমন গুরুত্ব দেননি। যারা মাস্ক পরেন, প্রকাশ্যে তাদের নিয়ে হাসাহাসি ও সমালোচনা করেছেন। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমরা করোনাভাইরাসকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। মাত্র একজন ব্যক্তি চীন থেকে এসেছেন। আমরা এটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছি। এটা ঠিক হয়ে যাবে।' ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ভাইরাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। একদিন এটি অলৌকিকভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবে। ১৮ মার্চ এক টুইট বার্তায় বলেন, আমি সব সময় এই চীনা ভাইরাসের ব্যাপারে খুবই সতর্ক ছিলাম। একেবারে শুরু থেকেই প্রায় সবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সীমান্ত বন্ধ করাসহ এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে খুব ভালো কাজ করেছি। ট্রাম্পের এ ধরনের লাগামহীন মন্তব্য ও অবহেলার খেসারত দিতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের। ইতোমধ্যে দেশটির ৭৩ লাখের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে দুই লাখের বেশি মানুষের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক ব্যবহারের ওপর জোর দিলেও ট্রাম্প বরাবরই এর বিরোধিতা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, মাস্ক পরার বিষয়টি একেবারে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত। আপনি চাইলে পরতে পারেন আবার নাও পারেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিলেও গত সপ্তাহে মাস্কবিহীন সমর্থকদের নিয়ে বিশাল সমাবেশ করেছেন ট্রাম্প। গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেন ট্রাম্প। সেখানে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনকে ঠাট্টা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমি তার মতো মাস্ক পরি না। আপনারা সব সময় তাকে দেখবেন মাস্ক পরে আছেন। তিনি ২০০ ফুট দূরে থেকে কথা বললেও সবচেয়ে বড় মাস্ক প্রদর্শন করবেন।
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প করোনাভাইরাস পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। করোনা শনাক্ত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই আমেরিকানদের করোনা নিয়ে বেশি চিন্তা না করার পরামর্শ দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'করোনাভাইরাসে আসলে প্রায় কারোই কিছু হয় না, কেবল বয়স্ক এবং দুরারোগ্য রোগীদের ছাড়া।' এমন মন্তব্যের পর করোনা আক্রান্ত হয়ে কেমন অনুভব করছেন ৭৪ বছরের বৃদ্ধ প্রেসিডেন্ট? প্রশ্ন হচ্ছে, করোনাভাইরাসের গুরুতর লক্ষণগুলো যদি ট্রাম্পের মধ্যে না থাকে তাহলে তিনি কী বলবেন? তখন হয়তো তিনি আরও জোরালোভাবে বলবেন, করোনাভাইরাস তেমন গুরুতর কিছু নয়। আবার যদি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তখন কী বলবেন?
ট্রাম্প দম্পতির করোনা আক্রান্তের খবর বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশ্নেষকদের ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ মাসখানেক পরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এই দম্পতির সুস্থতা কামনা করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন।
সাংবাদিক
- বিষয় :
- ট্রাম্প
- করোনা শিক্ষা
- সুদীপ্ত সাইফুল