ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রমজানে পণ্যমূল্যে ছাড় দিন

রমজানে পণ্যমূল্যে ছাড় দিন
×

আনোয়ার ফারুক তালুকদার

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২২ | ০৩:৫৬ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২২ | ০৬:০৩

বিশ্ব মুসলিমের প্রিয় রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজান চলমান। এটি মুসলমানদের জন্য বিশেষ ইবাদত-বন্দেগির মাস। সারা বছরের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হয়ে আত্মশুদ্ধি, নৈতিক প্রশিক্ষণ ও নৈতিক চরিত্র গঠনের সুযোগ আসে এই পবিত্র মাসে। রমজান মাসে বিশ্বমানবতার মুক্তির সনদ মহাগ্রন্থ আল কোরআন হজরত মোহাম্মদ সালল্গালল্গাহু আলাইহি ওয়া সালল্গামের ওপর নাজিল হয়। এ জন্য রমজান মাস অন্য যে কোনো মাসের তুলনায় অতি সম্মানিত। পবিত্র এ মাসেই আল্লাহতায়ালা প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ-স্বাধীন মুসলিম নর-নারীর ওপর দিনের বেলায় যাবতীয় পানাহার থেকে বিরত থাকার বিধান ফরজ করেছেন। 

রমজানের রোজা তাকওয়ার গুণ অর্জন এবং ইবাদতের অবারিত সুযোগ করে দেয়। অথচ আমাদের দেশে রমজান মাস এলেই একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, চাহিদা বৃদ্ধির অজুহাতে সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করার প্রবণতা দেখা যায়। কিছু ব্যবসায়ী রমজান মাসেই অধিক পরিমাণে মুনাফা লাভের আশায় বসে থাকে, যা মোটেও কাম্য নয়। কিন্তু অন্যান্য দেশে ধর্মীয়, নতুন বছর অথবা যে কোনো উৎসবে যাতে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে উৎসব পালন করতে পারে, সেজন্য ব্যবসায়ীরা পণ্যমূল্যের ব্যাপক ছাড় দিয়ে থাকেন। অনেক দেশে মানুষ সারাবছর ধরে বড়দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে, যাতে মূল্যছাড়ে তারা প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারে। বিশ্বব্যাপী মুসলিম-অমুসলিম দেশ নির্বিশেষে পবিত্র রমজান মাস সমাগত হলে মানুষের প্রতি মানুষের সহনুভূতি বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে অথবা মূল্য ছাড় দিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে। অথচ আমাদের দেশের বাজার ব্যবস্থায় বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়।

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি শুধু সাধারণ রোজাদারের জন্য নয়, বরং এটি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মশুদ্ধি এবং তাকওয়া অর্জনের সময়। রমজান মাস আমদের সাম্যের শিক্ষা দেয়। গরিব দুঃখী, অনাহারি মানুষ সারাবছর কীভাবে পার করে, তা বোঝার একটা সুযোগ করে দেয় মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা। সিয়াম পালনে মুসল্লিদের কাজকর্ম সহজ করে দিতে বলা হয়েছে। বর্তমানে পণ্যমূল্য নিয়ে এমনিতেই সাধারণ মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করছে। তার মধ্যে রমজানে যদি পণ্যমূল্যে ছাড় দিয়ে ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করেন, তবে নিশ্চয় তারাও পুণ্যের ভাগিদার হবেন। পবিত্র রমজানে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করে রোজাদরকে কষ্ট দেওয়া ইসলামে মহাপাপ। এমন প্রবণতা কখনও ইসলাম সমর্থন করে না, বরং এটি রমজানের শিক্ষার পরিপন্থি। অধিক লাভের আশায় মালামাল মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রয়কারীর ওপর মহানবীর (সা.) অভিসম্পাত। রাসুলুলল্গাহ (সা.) এরশাদ করেন, 'ন্যায্যমূল্যে জিনিস সরবরাহকারী রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুত করে সংকট সৃষ্টিকারী অভিশপ্ত'। (বোখারি : ৩৭১২)। হজরত রাসুলুলল্গাহ (সা.) এরশাদ করেন, 'মূল্যবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি চলিল্গশ দিন পর্যন্ত খাদ্যশস্য মজুত করে রাখে সে ব্যক্তি আলল্গাহর দায়িত্ব থেকে মুক্ত এবং তার প্রতি আলল্গাহ অসন্তুষ্ট হন'। (মিশকাত :১৩১৬)।

ব্যবসায়ীদের আন্তরিক ইচ্ছা, নীতি-নৈতিকতা ও ইসলামসম্মত জনসেবামূলক কার্যক্রম মাহে রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষার লক্ষ্যে রোজাদারের যথাযথ দায়িত্ব পালন, আত্মশুদ্ধি অর্জন ও ইবাদত-বন্দেগিকে নির্বিঘ্ন করতে সব ব্যবসায়ীর জন্যই এ মাসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও মর্যাদা উপলব্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। এ জন্য জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমাজের প্রত্যেক ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ থাকল রমজানে পণ্যমূল্যে ছাড় দিন, অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশা পরিহার করে সাধারণ জনগণকে স্বস্তিতে রোজা পালনে সহযোগিতা করুন। এতে করে সমাজ, দেশ উপকৃত হবে, সমাজে সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ঐক্য ও সহমর্মিতা বাড়বে। আলল্গাহতায়ালা সবাইকে পবিত্র রমজান মাসের গুরুত্ব ও যথাযথ দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন।

আরও পড়ুন

×