যানবাহনে শিশুবান্ধব আসন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০
যানবাহনে শিশুবান্ধব আসন নিশ্চিতকরণ বিষয়ে রবিবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় যেই পরামর্শ দেওয়া হইয়াছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উহা বিবেচনায় লওয়া প্রয়োজন বলিয়া আমরা মনে করি। কারণ, সোমবার প্রকাশিত সমকালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উক্ত আলোচনা সভায় বেসরকারি সংস্থা গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপের এক গবেষণার তথ্য উদ্ধৃত করিয়া জানানো হয়, সাধারণ যানবাহনে শিশুদের জন্য সুরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা থাকিলে সড়ক দুর্ঘটনায় ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং বড় শিশুদের ক্ষেত্রে ৫৪ থেকে ৮০ শতাংশ মৃত্যুহার হ্রাস পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন-সিডিসির মত হইল, যানবাহনে শিশুবান্ধব আসন সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুদের আঘাতের ঝুঁকি ৭১ হইতে ৮২ শতাংশ লাঘব করে। শুধু উহাই নহে; উক্ত বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হইয়াছেন ৭ সহস্রাধিক মানুষ, যাহাদের মধ্যে তিন মাস হইতে ১৭ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা ছিল সহস্রাধিক। অতএব বলা যায়, যানবাহনে শিশুবান্ধব আসন নিশ্চিত করা হইলে সড়ক দুর্ঘটনায় সামগ্রিক হতাহতের সংখ্যায়ও উহার ইতিবাচক প্রভাব পড়িবে।
তবে দুঃখজনক, সরকার বিষয়টি সম্পর্কে সজাগ বলিয়া প্রতিভাত হয় না। কারণ সংশ্লিষ্ট আইনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি হইলেও সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-তে শিশুদের সুরক্ষিত আসন বিষয়ে কিছু বলা নাই। গত ২৭ ডিসেম্বরে গেজেট আকারে প্রকাশিত বিধিমালায় শিশুযাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধার গুরুত্ব তুলিয়া ধরা হইলেও শিশু আসন বিষয়ে কিছুই বলা নাই।নিঃসন্দেহে, যথায় গণপরিবহনে বয়স্ক যাত্রীদের জন্যই উপযুক্ত আসন নিশ্চিত করা যায় নাই, তথায় শিশুদের জন্য এ বিশেষ আয়োজন এক প্রকার কষ্টকল্পনাস্বরূপ। কিন্তু অন্তত ব্যক্তিগত যানবাহনে তো শিশুবান্ধব আসন নিশ্চিত করা যায়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মালিকের সদিচ্ছাই যথেষ্ট, যাহা অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রক সংস্থার যথাযথ উদ্যোগের ওপর নির্ভরশীল।
উচ্চগতির এ যুগে, শিশুদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করিবে বলিয়া আমাদের প্রত্যাশা।
