পরিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভিসির
ছবি-সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ০৬:৪৮
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাংলাদেশকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম বদ্বীপ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত এবং বৃহত্তম গভীর-সমুদ্র সাবমেরিন ফ্যানও বাংলাদেশে অবস্থিত। তাই পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকাও বাংলাদেশকেই নিতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। ৮ ও ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য উপযোগী গাছের প্রজাতি নির্ধারণে ইতোমধ্যে ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
কাঠের জ্বালানি ব্যবহারকারী ইটভাটা বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গেল ইউজ পলিথিনের পরিবর্তে পচনশীল বিকল্প ব্যবহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রফেসর ফারহাত আনোয়ার বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং তরুণদের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একাডেমিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এমন একটি শক্তি রয়েছে, যা অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে ব্র্যাকের উপস্থিতি রয়েছে। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু কার্যক্রমে আরও বড় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল’ বা থ্রিআর নীতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সার্কুলার অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করার আহ্বান জানান। এ কাজে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ও সিথ্রিইআরের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত বলেন, বাংলাদেশ যে অপরাধ করেনি, তার পরিণতিই আজ ভোগ করছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ৪০ থেকে ৫০টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে উল্লেখ করে এসব অঙ্গীকারের আরও কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব দায়বদ্ধতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী জলবায়ু ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার, একাডেমিয়া, বেসরকারি খাত ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি টেকসই উন্নয়নে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যাংকটির বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদেরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, কারণ ভবিষ্যতে তারাই বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইংয়ের প্রধান এ. কে. এম. সোহেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ ক্রমশ অ্যাডাপ্টেশনভিত্তিক অর্থায়নের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণদের বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো, প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রস্তাব তৈরির দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সিথ্রিইআরের পরিচালক ড. গোলাম রব্বানী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, সবুজ ও পরিচ্ছন্ন শহর এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ‘শি ফর ক্লাইমেট ফেলোশিপ’ কর্মসূচির সেরা তিনজন অংশগ্রহণকারীকে পুরস্কৃত করা হয়। জলবায়ু কার্যক্রমে নারীদের নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুদিনব্যাপী আয়োজনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশনে জলবায়ু সহনশীলতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, প্রকৃতিনির্ভর সমাধান এবং তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ২৫ বছরপূর্তি উদযাপনের সময় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার এবং আরও টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে দুদিনব্যাপী এ আয়োজন শেষ হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
- বিষয় :
- ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি
- দিবস
- পরিবেশ