তাবলিগ জামায়াত নিয়ে টুইট, রোষের মুখে অপর্ণা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ০১:২৩ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৪৪
ভারতের দিল্লীতে অবস্থিত নিজামুদ্দিন এলাকার তাবলিগ জামাতকে ভারতে করোনাভাইরাস বৃদ্ধির জন্য সরাসরি দায়ী করে টুইট করেছেন কলকাতার অভিনেত্রী ও নির্মাতা অপর্ণা সেন। শনিবার করা টুইটে অপর্ন নিজামউদ্দিনের তাবলিগ জামায়াতকে ‘ক্রিমিন্যাল অ্যাক্ট’ বলে মন্তব্য করে সেখানে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন এ অভিনেত্রী।
অপর্ণার করা সেই টুইট খুব অল্প সময়ে স্যোসাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। টুইটে অপর্ণা লিখেন, জামাতের সম্মেলন শুধু মারাত্মক নয়, এটা ‘ক্রিমিন্যাল অ্যাক্ট’, সে কারণে এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। আমি ধর্মনিরপেক্ষ আর উদারনীতিতে বিশ্বাস করি। কিন্তু এমন কাজকে সমর্থন করব না, যা আমার দেশের আইনের বিরুদ্ধে যায়। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী সকলের- ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযোজ্য।’

অপর্ণার এ ধরনের টুইটে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ। তারা বলেন, অপর্ণা সরাসরি সমস্যার গভীরে না গিয়ে শুধু মন্তব্য করে ‘মাঙ্কি ব্যালেন্সিং’ করছেন।’ কেউ আবার অপর্ণাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শুধু জামায়াত নিয়ে কথা বলে কী হবে? মন্দির বা রামনবমী নিয়ে বলছেন না কেন?’
ওই মন্তব্যের পর চুপ থাকেননি অপর্ণা। প্রশ্নেরও সরাসরি জবাব দেনতিনি। বলেন,‘আমি ধর্মীয়-অধর্মীয় যেকোনো ধরনের জমায়েত, যা থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে তার বিরোধী। আমি শুধুমাত্র জামাতকেই দুষছি না। জামাতের জন্য তো সব মুসলিম সম্প্রদায়কে রোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। এটাও ঠিক নয়।’
উল্লেখ্য, এর আগে ভারতে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দিল্লির নিজামউদ্দিন মসজিদে ইজতেমায় যোগ দেওয়া সাত মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে। আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। ১৩ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত ওই মসজিদে ইজতেমায় যোগ দেন প্রায় দুই হাজার মুসল্লি। এর পর এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পাকিস্তানে তাবলিগ জামাতের ৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য ডনের।
দিল্লির ইজতেমায় যোগ দেওয়া তিন শতাধিক মানুষের করোনার উপসর্গ থাকায় সোমবার তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর মারকাজ নিজামুদ্দিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে থাকা ৭০০ মুসল্লিকে বাসে করে নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। নিজামুদ্দিন মারকাজে যে মুসল্লিরা জমায়েত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরগিজিস্তান থেকে আসা প্রতিনিধিরাও ছিলেন। মৃতদের মধ্যে তেলেঙ্গানা রাজ্যের ছয়জন এবং কাশ্মীরের এক ইমাম রয়েছেন। কাশ্মীরের ইমাম গত সপ্তাহে শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
