শিল্পের ভাষায় সচেতনতার বার্তা দিতে চেয়েছি: নুহাশ হুমায়ূন
নুহাশ হুমায়ুন
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২০ | ০৪:৪২ | আপডেট: ২১ মে ২০২০ | ০৪:৪৪
নুহাশ হুমায়ুন। নির্মাতা। করোনা প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষায় তার গল্পভাবনা ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে সচেতনতামূলক ওয়েব সিরিজ ‘বিচ্ছুজ’। এই প্রযোজনা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে
করোনা প্রাদুর্ভাব নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের ভাবনা কেন করলেন?
এই সময়ে সবাইকে বাসায় বন্দী থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এমন দূর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিতে আমারও ইচ্ছা করছে। কিন্তু বাইরে যাওয়ার তো কোনও উপায় নেই। তাই ভাবলাম মানুষকে সচেতন করার জন্য কোনও একটা উপায় বের করতে হবে। যেহেতু শিল্পমাধ্যমে কাজ করি, তাই শিল্পের ভাষায় সচেতনতার বার্তা দিতে চেয়েছি। এরমধ্যে দেশজুড়ে মানুষ ও বিভিন্ন কমিউনিটিকে সহায়তায় অনলাইনে ও মাঠপর্যায়ে সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজনে গত মার্চে ওয়াটারএইড #ফাইটকরোনাইউনাইটেড ক্যাম্পেইন চালু করে। এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবেই ‘বিচ্ছুজ’ নির্মাণের প্রস্তাব এলো। পাশাপাশি পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে নির্মাতা হওয়া ছাড়াও ‘ইয়ুথ ফর এসডিজি ৬’ প্ল্যাটফর্মের উপদেষ্টা হিসেবে থাকার কারণে এ প্রকল্পটি আমার হৃদয়ে বিশেষ জায়গা নিয়ে আছে। তাই এইধরনের ভিন্নধর্মী কাজের প্রস্তাব আমাকে ভীষনভাবে আর্কষন করে।
এর গল্প কিভাবে সাজানো হয়েছে?
সচেতনতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশেষ করে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব বোঝানো দুরূহ এমন চার বন্ধুকে ঘিরে এ ওয়েব সিরিজের গল্প। এখানে ‘বন্ধু’ নামের পাপেট এ চার বন্ধুর স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এ সিরিজের চারটি চরিত্র রূপায়ণ করেছে টোকাই থিয়েটারের সদস্যরা এবং ‘বন্ধু’ চরিত্রে কণ্ঠদান করেছে প্রীতম হাসান। এ পাঁচ চরিত্রের নানা কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে সিরিজের গল্প এগিয়েছে যেখানে দর্শক দেখতে পাবেন, এ চরিত্রগুলো কীভাবে হাস্যরস, ব্যঙ্গ ও বিদ্যমান নানা ট্যাবুর মধ্য দিয়ে হাতধোয়ার গুরুত্ব বোঝে।
কিন্তু 'পাপেট' নির্ভর প্রযোজনা মিডিয়া অঙ্গনে খুব একটা প্রচলিত নয়, তবুও এই মাধ্যমকে বেছে নেয়ার কারন কী?
টিভিতে আমরা প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক আয়োজন দেখতে পাই। কিন্তু আমার কাছে এই ধরনের বেশীরভাগ আয়োজনে একঘেয়ে মনে হয়েছে। গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে কিছু করার চেষ্টা থেকে 'বিচ্চুজ' নির্মান করেছি। তাছাড়া এখন তরুন প্রজন্মের চাহিদা বদলেছে। তরুণদের মধ্যে কোনো কিছু করার অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদেরকে আগে বুঝতে হবে। শুধুমাত্র ঢালাও ভাবে সচেতনতার বার্তা দিয়ে প্রত্যাশা করা যাবে না তারা এটা বিশ্বাস করবে বা নির্দিষ্ট অভ্যাস গড়ে তুলবে। বর্তমানের তরুণরা কী করা উচিত, এটা শোনার চেয়ে উপলব্ধির ব্যাপারে বেশি মনোযোগী। আমাদের তাদের ভাষাতেই তাদেরকে বলতে হবে, সেটা হোক শুনতে বিল্পবী, অপ্রচলিত কিংবা অপ্রত্যাশিত।
বাসায় আছেন। সময় কিভাবে কাঁটছে?
বাসাতেও কাজ নিয়েই ব্যস্ত আছি। বেশ কিছু সচেতনতামূলক কাজের প্রস্তাব পেয়েছি। সেগুলোর জন্য পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।