ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলি হামলায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখানোর আয়োজক নিহত, গাজায় শোকের ছায়া

গাজায় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখানোর আয়োজক ইসরায়েলি হামলায় নিহত
×

ফিলিস্তিনি ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। ছবি: আলজাজিরার সৌজন্যে

বিবিসি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৫২ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৫৪

বিভিন্ন দেশের মানুষের মতো ফুটবল উন্মাদনায় শামিল হয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার বাসিন্দারাও। নিজেদের পছন্দের দলের সাফল্যে তারাও পেয়েছিলেন উদযাপনের সুযোগ। কিন্তু দুইদিন আগের একটি ঘটনায় সমর্থকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

গাজা সিটি, দেইর আল-বালাহ এবং দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ বড় পর্দায় দেখানোর আয়োজক ছিলেন ফিলিস্তিনি ত্রাণকর্মী মোহাম্মদ আল-ওয়াহিদি। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার বহু মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অন্যতম পরিচিত ও মানবিক এক মুখ।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয় মিসর। আল-ওয়াহিদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো তাঁর ত্রাণ বিতরণ কাজের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে সয়লাব হয়ে যায়। শত শত মানুষ তাঁর প্রতি সমবেদনা ও শোক বার্তা লিখেন।

গাজায় বড় পর্দায় খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন আল-ওয়াহিদি। ছবি: সংগৃহীত

মঙ্গলবার গাজা সিটির সাবরা এলাকার মধ্য দিয়ে একটি ট্যাক্সিতে করে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি গাড়িটিতে আঘাত হানে। এতে আল-ওয়াহিদিসহ মোট চারজন নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হামাসের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে ওই হামলা চালিয়েছিল।

প্রায় ৬৫ বছর বয়সী আল-ওয়াহিদি যুদ্ধ শুরুর আগে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। সংঘাতের সময় গাজায় মিসরীয় ত্রাণ কমিটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি জরুরি খাদ্য সহায়তা সমন্বয়, বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয় ক্যাম্প স্থাপন এবং বারবার স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হওয়া মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

গাজার বহু মানুষের মতে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তরে বসে কাজ করার চেয়ে আল-ওয়াহিদি সরাসরি মাঠে নেমে কাজ করতে বেশি পছন্দ করতেন। আর এ কারণেই বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে তিনি সবার অত্যন্ত পরিচিত ও চেনা মুখ হয়ে উঠেছিলেন।

অধিকারকর্মী মোহাম্মদ হুমাইদ লিখেছেন, ‘তিনি (আল-ওয়াহিদি) ত্রাণ কমিটির সাধারণ একজন কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন আশার এক দুয়ার। যারা তাঁকে চিনতেন, তাদের প্রত্যেকেই তাঁর দয়া, সততা ও উদারতার কথা বলেন।’

হুমাইদ আরও লিখেছেন, গাজায় যারা অন্যদের সাহায্য করার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, তারাও রেহাই পান না। তবে ভালো কাজকে কখনো মেরে ফেলা যায় না। মানুষের হৃদয়ে তা চিরকাল বেঁচে থাকে।

আরও পড়ুন

×