ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ছে
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫০
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ওয়াশিংটনের উদ্দেশে বলেছেন, সামরিক চাপ বাড়িয়ে রাশিয়াকে শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করা যাবে না। বরং ইউক্রেনের হামলার জবাবে তারা দেশটির আরও এলাকা দখল করে নিরাপত্তাবলয় তৈরি করবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, পুতিন হয়তো ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত বাল্টিক দেশ বা রোমানিয়ার ঘাঁটিতে বিচ্ছিন্ন হামলার মাধ্যমে পশ্চিমা জোটের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন। এ ধরনের পদক্ষেপ ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ সৈন্য হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ লাখই রাশিয়ার। এত ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ডনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণ দখল করা পুতিনের জন্য এখন এক মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ সত্ত্বেও মাঠ পর্যায়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও যুদ্ধ থামানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছেন না। ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, পুতিন বরং আগামীতে এই যুদ্ধকে আরও তীব্র করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অন্যদিকে ইউক্রেনকে শক্তিশালী প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুসারে, সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে পুতিনের মনোভাব আরও কঠোর হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি খাতে হামলা করে রাশিয়াকে দমানো যাবে না এবং ইউক্রেনকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিমান হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, এর ফলে ইউক্রেন নিজেই এই প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে। তবে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা এড়াতে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের মাটিতে নয়, বরং জার্মানি বা অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশে তৈরি করা হতে পারে।