ঢাকা শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন সহায়তা কমিশনের সব কমিশনারকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নির্বাচন সহায়তা কমিশনের সব কমিশনারকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

রয়টার্স

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬ | ১২:৩০

মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে স্বাধীন ফেডারেল সংস্থা ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের (ইএসি) শেষ তিন কমিশনারকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সহায়তা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা চার সদস্যের এই দ্বিদলীয় কমিশনের একজন সদস্য গত এপ্রিলে দায়িত্ব ছাড়েন। আর বাকি তিন কমিশনারকে বৃহস্পতিবার ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, রিপাবলিকান মনোনীত একমাত্র কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট মনোনীত দুই কমিশনারকে হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিস থেকে পাঠানো ই-মেইলে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ওই রায়ে স্বাধীন সরকারি সংস্থার সদস্যদের অপসারণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের প্রক্রিয়ায় ফেডারেল সরকারের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপরই ন্যস্ত।

রয়টার্সের দেখা বরখাস্তের ই-মেইলে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, ইলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স কমিশনের কমিশনার হিসেবে আপনার দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ করা হলো। আপনার সেবার জন্য ধন্যবাদ।’ রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসও কমিশনারদের অপসারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিরাপদ রাখা এবং প্রতিটি বৈধ ভোট গণনা নিশ্চিত করার কাজে যারা পুরোপুরি একমত নন বলে মনে হবে, তাদের অপসারণের অধিকার প্রেসিডেন্টের রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাচনকে জালিয়াতি ও অনিয়ম থেকে সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো শক্তিশালী করতে বিনিয়োগও করা হচ্ছে।

ইএসির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সংস্থাটি নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত তথ্যের জাতীয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহায়তার পাশাপাশি ভোটারদের অংশগ্রহণ সহজ করতে বিভিন্ন নির্দেশনা ও সেবা দিয়ে থাকে। ১৯৯৩ সালের ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট-এর অধীন জাতীয় ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধন ফরমের তত্ত্বাবধানও করে সংস্থাটি।

ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়মে পরিবর্তন আনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচারের মধ্যেই এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটল। একই সময়ে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও তদন্ত চলছে। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে পরাজিত হলেও ট্রাম্প এখনো কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করে আসছেন, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তার জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।


 

আরও পড়ুন

×