নারীর সংগ্রামের গল্পে অভিষেক
স্নিগ্ধা বললেন, অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না
স্নিগ্ধা চৌধুরী। ছবি: ফেসবুক
বুলবুল ফাহিম
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৬:৩৩ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৭:৪৪
সাড়ে তিন বছর আগে নায়ক সিয়াম আহমেদকে নিয়ে ‘রাস্তা’ নামের একটি সিনেমার ঘোষণা এসেছিল। সেখানে নায়িকা হিসেবে নাম ছিল স্নিগ্ধা চৌধুরীর। সিনেমাটির জন্য টানা ছয় মাস অভিনয়ের প্রশিক্ষণও নেন স্নিগ্ধা। তবে রায়হান রাফী পরিচালিত সেই সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত শুটিং ফ্লোরে গড়ায়নি। সাড়ে তিন বছর পর একই নির্মাতার হাত ধরেই ভিন্ন এক সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে স্নিগ্ধার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আগামী ঈদে মুক্তি পাচ্ছে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘প্রেসার কুকার’।
দেড় বছর আগে নির্মাতা রায়হান রাফী তাকে এই সিনেমার গল্পের প্লট শোনান। সে সময় তিনি একবার অডিশনও দেন। পরে যখন চূড়ান্তভাবে সিনেমাটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, স্নিগ্ধা তখন দেশের বাইরে ছিলেন। রাফী মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়ে জানান, চারটি নারী চরিত্রকে গুরুত্ব দিয়ে গল্পটি চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং তিনি এতে আগ্রহী কি না জানতে চান। বিষয়টি শুনেই কোনো দ্বিধা না করে রাজি হন স্নিগ্ধা।
২০২২ সালে সিয়াম আহমেদের সঙ্গে না হওয়ার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে সিনেমাটির ঘোষণা এসেছিল ঠিকই। কিন্তু নানা কারণে তা হয়। সেগুলো বলতে চাই না। অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চান না। মাঝের তিন-চার বছর পুরোটা সময়ই মডেলিং নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এরপর ‘প্রেসার কুকার’-এর প্রস্তাব পেয়ে নতুন করে কাজ শুরু করি। সাড়ে তিন বছর আগে যে নির্মাতার সঙ্গে প্রথম সিনেমা করার কথা ছিল, সাড়ে তিন বছর পর সেই একই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে পারাটা আনন্দের।’

পোস্টার দেখেই অনেকেই বুঝেছেন, এটি নারীপ্রধান সিনেমা। দেশের চারটি ভিন্ন অঞ্চল থেকে স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় আসা চার নারীর জীবন সংগ্রাম নিয়ে ছবির গল্প। স্নিগ্ধা এই চার চরিত্রের একজন।
স্নিগ্ধা চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিটি নারীই এই চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজের একটা সম্পর্ক খুঁজে পাবেন। বিশেষ করে মফস্বল থেকে ঢাকায় আসা নারীরা গল্পটির সঙ্গে সহজেই নিজেকে মেলাতে পারবেন। প্রথম সিনেমা হওয়ায় যেমন আনন্দিত, তার চেয়েও বেশি খুশি নারীর ক্ষমতায়নের গল্পে যুক্ত হতে পেরে।’
এই সিনেমায় কোনো নায়ক নেই—শুধু চার নায়িকা। স্নিগ্ধা চৌধুরী ছাড়াও আছেন শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি, মারিয়া শান্ত।

এ প্রসঙ্গে স্নিগ্ধার মন্তব্য, ‘সিনেমার মূল শক্তি হলো গল্প, নির্মাতা ও শিল্পীরা। এর আগেও নায়কবিহীন সিনেমা হয়েছে এবং দর্শক তা গ্রহণ করেছেন।’
খানিকটা মজা ছলে তিনি বলেন, ‘এতদিন দেশ পরিচালনা করেছেন দুই নারী নেত্রী, সেখানে চার নারী মিলে একটি সিনেমা দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারবেন না—এমন ভাবনার কোনো কারণ নেই। বরং নায়ক না থাকাটাই সিনেমাটিকে আলাদা করে তুলেছে।’
রায়হান রাফীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে স্নিগ্ধা বলেন, রাফী খুবই সময়ানুবর্তী এবং শিল্পীদের কাছ থেকে সেরা কাজটি বের করে নিতে জানেন। নতুন শিল্পী হিসেবে আমার পেছনে রাফী ও তার টিম যে শ্রম দিয়েছেন তা বলে শেষ করা যাবে না। এজন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
শুটিং শুরুর আগে রায়হান রাফীর অফিসে নিয়মিত রিহার্সেল করেছেন স্নিগ্ধা। অভিনয়ের খুঁটিনাটি বিষয় শিখেছেন, চরিত্র বোঝার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, রাফী কাজের ব্যাপারে কোনো আপস করেন না, যা একজন নতুন শিল্পীর জন্য বড় শেখার জায়গা।

ইন্ডাস্ট্রিতে নতুনদের জায়গা পাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্নিগ্ধা বলেন, বর্তমানে নায়িকার সংকট রয়েছে। নতুনরা নিয়মিত কাজ না করলে এই সংকট দূর হবে না। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রতিষ্ঠিত শিল্পীরা নতুনদের স্বাগত জানাবেন। দর্শক তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। সামনে আরও সিনেমায় কাজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
রংপুরের মেয়ে স্নিগ্ধা চৌধুরী ছোটবেলা থেকেই আগ্রহী ছিলেন মডেলিংয়ে। ২০১৮ সাল থেকে মডেল হিসেবে বিলবোর্ড ও র্যাম্প শো-তে করেছেন। দেশের বাইরেও বিভিন্ন ফ্যাশন শো-তে অংশ নিয়েছেন, নাম কামিয়েছেন। এবার তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেন। এখন থেকে সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করে যেতে চান স্নিগ্ধা চৌধুরী।
- বিষয় :
- স্নিগ্ধা চৌধুরী
- সিনেমা
- নায়িকা
