ঈদ নাটক
সহজ-সরল ও পারিবারিক গল্পের বাজিমাত
আপনজন নাটকের শিল্পী-কলাকুশলীরা
এমদাদুল হক মিলটন
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৩৫ | আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:০৯
ঈদ মানেই বিনোদনের বাড়তি আয়োজন। সেই আয়োজনে নাটক বরাবরই দর্শকের প্রথম পছন্দ। সাম্প্রতিক সময়ের প্রবণতা বলছে, দর্শক এখন বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন পারিবারিক গল্পভিত্তিক নাটকের প্রতি। গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারের ঈদেও সেই ধারা আরও জোরালো হয়েছে। পরিবারকে কেন্দ্র করে ভালোবাসা, অভিমান, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বাস্তব জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি–এসবই এখনকার জনপ্রিয় নাটকগুলোর মূল উপজীব্য।
এবারের আলোচিত নাটকগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ‘ফ্যামিলি ম্যান’। মুহম্মদ মোস্তাফা কামাল রাজ পরিচালিত নাটকটির কাহিনিতে দেখা যায়, সীমিত আয়ের এক তরুণ নিজের পরিবারকে ভালো রাখতে গিয়ে নিজের চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দেন। অন্যদিকে তাঁর ভালোবাসার মানুষ আসে ভিন্ন আর্থসামাজিক পটভূমি থেকে। এই বৈপরীত্যের মধ্যেই এগিয়ে চলে গল্প। সহজ-সরল কিন্তু আবেগঘন এই কাহিনি দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে খুব দ্রুতই। প্রকাশের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি কোটি দর্শকের কাছাকাছি পৌঁছে যায়, যা এর জনপ্রিয়তার স্পষ্ট প্রমাণ।
একইভাবে ‘ডিয়ার ফ্যামিলি’ নাটকটিও দর্শকের আলোচনায় রয়েছে। এতে বাবা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন তুলে ধরা হয়েছে। পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি, অভিমান এবং দূরত্ব এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গল্পটি দর্শকহৃদয়ে দাগ কেটেছে। এতে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম ও খায়রুল বাসার। সাজ্জাদ হোসেন পরিচালিত এ নাটকটি চার দিনে দেখেছেন ৫৬ লাখ দর্শক।
অন্যদিকে ‘আপনজন’ নাটকটি একেবারেই পরিবারকেন্দ্রিক একটি বড় ক্যানভাসের গল্প। এতে পরিবারের বহু সদস্যের জীবন, তাদের সম্পর্ক এবং একে অপরের প্রতি টানাপোড়েন তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর আপনজনদের কাছে ফিরে আসার অনুভূতি এবং পারিবারিক বন্ধনের শক্তিই এ নাটকের মূল উপজীব্য। একাধিক চরিত্রের সমন্বয়ে তৈরি এই নাটকটি দর্শকের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, দিলারা জামান, নাদের চৌধুরী, শাহেদ শরীফ খান, দীপা খন্দকার, জোভান, নাজনীন নীহাসহ অনেকে। নাটকটি নির্মাণ করেছেন জাকারিয়া শৌখিন।
অভিনেত্রী দীপা খন্দকার বলেন, ‘রোজার মধ্যে এই নাটকের শুটিং করেছিলাম পুবাইলের একটি শুটিং হাউসে। বুঝতে পারিনি নাটকে এত এত শিল্পী আছেন। শুটিংয়ে গিয়ে সবাইকে দেখে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করেছিল। নাটকটিতে সাড়া পেয়ে ভালো লাগছে।’
ঈদের নাটকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন ‘ভালোবেসে অবশেষে’। হানিফ সংকেতের এ নাটকটি শৈশবের বন্ধুত্ব, সময়ের ব্যবধান এবং পুনর্মিলনের আবেগ–এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এর কাহিনি। গল্পে গ্রামীণ আবহ, স্মৃতিময় অতীত এবং বর্তমানের বাস্তবতা মিলেমিশে এক ভিন্নধর্মী অনুভূতি তৈরি করেছে। পাশাপাশি এতে একটি সামাজিক বার্তাও রয়েছে, যা দর্শকদের ভাবাতে বাধ্য করে।
এছাড়াও তন্ময় সোহেল মীম চৌধুরীর ‘সুখের সংসার’, শ্যামল মাওলা, মৌসুমী মৌর ‘সখিনা’, মোশাররফ করিম-হিমির ‘লাল মোরগের ঝোল’,‘পরিবার ভক্ত’, তানিয়া বৃষ্টি- মোশাররফ করিমের ‘ভাসুর’, ‘চার নম্বর বউ’, ‘বউ-এর অফিস’, ‘গরিবের সুন্দরী বউ’, নিলয় আলমগীর-হিমির ‘বউয়ের বিয়ে’, মুশফিক ফারহান ও সামিরা খান মাহির ‘আদরের সন্তান’, মোশাররফ করিম-তাসনুভা তিশার ‘সংসার বিষের বড়ি’, ফারহান আহমেদ জোভান-সাদিয়া আয়মানের ‘বিবাহিত জীবনের দিনগুলি’, ইরফান সাজ্জাদ ও তাসনুভা তিশার ‘হুইলচেয়ার’, মুশফিক আর ফারহান ও সুমনার ‘যত্ন’, সাফা কবির ও পার্থ শেখের ‘সুখ অসুখের গল্প’, আখম হাসান ও মিলির ‘জামাই শ্বশুরের কেরামতি’, তৌসিফ-তাসনিয়া ফারিণের ‘আমাদের বিয়ে’, নিলয়-তানিয়া বৃষ্টির ‘সাবলেট কাপল’, মোশাররফ করিম-রোবেনা রেজা জুঁই’র ‘ভ্যাজাল জামাই’, নিলয় আলমগীর-তানিয়া বৃষ্টির ‘সুখের স্যুটকেস’, মুশফিক আর ফারহান-কেয়া পায়েলের ‘আমাদের সুখ দুঃখ’, মোশাররফ করিম-নীলাঞ্জনা নীলার ‘ফিরে এসো বউ’, মানষী প্রকৃতি-তন্ময় সোহেলের ‘বয়রা বউ বোবা জামাই’সহ আরও কিছু নাটক ছিল পারিবারিক গল্পের নাটকের তালিকায়। নাটকগুলো দর্শক বেশ গ্রহণ করেছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জাঁকজমকপূর্ণ বা কল্পনানির্ভর গল্পের চেয়ে বাস্তবধর্মী, সম্পর্কভিত্তিক নাটকই দর্শকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। পারিবারিক গল্পের এই জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতেও নাট্য নির্মাতাদের একই ধারায় কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে বলে টিভি নাটকের নির্মাতারা মনে করছেন।
- বিষয় :
- নাটক
- সিনেমা
- ধারাবাহিক নাটক
