শিল্পকলায় দিনভর তৌকীর আহমেদের সৃজনযাত্রা উদযাপন
ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:৩৭ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:০৩
মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক আর সিনেমা—তিন মাধ্যমেই নিজের দীপ্ত উপস্থিতিতে আলোকিত করেছেন অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। অভিনয়ের মুন্সিয়ানা আর নির্দেশনার স্বতন্ত্র ভাষা—দুই ক্ষেত্রেই তিনি দর্শকের ভালোবাসায় হয়েছেন অনন্য। আজ এই নির্মাতা ও অভিনেতার দীর্ঘ ছয় দশকের জীবন ও সৃষ্টিকে ঘিরে এক আবেগঘন সম্মিলন ঘটল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে।
দিনের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় ‘আমাদের সংস্কৃতি ও শিল্পীর দায়’ শীর্ষক সেমিনার। সেখানে আলোচনায় উঠে আসে শিল্পীর সামাজিক দায়বদ্ধতা, সময়ের সঙ্গে শিল্পচর্চার সম্পর্ক, এবং তৌকীর আহমেদের কাজের বহুমাত্রিকতা। নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী তার সিনেমা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা উপস্থাপন করেন; নাট্যকার মাসুম রেজা আলোচনা করেন তার মঞ্চনাট্য নির্মাণ নিয়ে; আর টেলিভিশন মাধ্যমে তার কাজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন সাংবাদিক ও উপস্থাপক রুম্মান রশীদ খান। এ সময় বক্তব্য রাখেন বরেণ্য অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেনও।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মামুনুর রশিদ, আবুল হায়াত, মাহফুজ আহমেদ, গাজী রাকায়েত, আজীজুল হাকিম, কচি খন্দকার
বিকেলে জাতীয় নাট্যশালার পর্দায় ভেসে ওঠে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র অজ্ঞাতনামা। প্রদর্শনী শেষে দর্শকদের অংশগ্রহণে জমে ওঠে মুক্ত আলোচনা। কেউ বললেন তার গল্প বলার ভঙ্গি নিয়ে, কেউবা বললেন বাস্তবতার নির্মোহ উপস্থাপনা নিয়ে।
সন্ধ্যা ঘনাতেই মঞ্চে উঠে আসে আরেক আবেগঘন মুহূর্ত। এ সময় তার নির্দেশিত ও অভিনীত নাটক তীর্থযাত্রী মঞ্চায়িত হয়। দর্শকসারিতে তখন নীরবতা, মাঝে মাঝে করতালির ঢেউ। যেন এক শিল্পীর জীবনদর্শন মঞ্চে প্রতিফলিত হতে থাকে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে আবেগের ছোঁয়া ছিল প্রতিটি মুহূর্তে। সমাপনী পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর স্মৃতিচারণায় বারবার উঠে এসেছে তৌকীর আহমেদের নাম, তার কাজ, তার প্রভাব।

আয়োজন উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম বলেন, ‘তৌকীর আহমেদের দীর্ঘ অভিনয় ও নির্মাণজীবনের সৃজনশীল অবদান তুলে ধরতেই এই আয়োজন। আমরা বন্ধুরা মিলে তাকে সম্মান জানাতে চেয়েছি। আমা করি সেটা পেরেছি আমরা।
১৯৮০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তৌকীর আহমেদ রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দর্শকমহলে আলাদা জায়গা করে নেন। বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে তানভীর মোকাম্মেল পরিচালিত ‘নদীর নাম মধুমতী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। পরবর্তীতে নির্মাতা হিসেবে ২০০৪ সালে ‘জয়যাত্রা’ চলচ্চিত্র দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্মাণ করেছেন ‘রূপকথার গল্প’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ও ‘স্ফুলিঙ্গ’র মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র।
তার দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক শিল্পযাত্রাকে স্মরণ ও পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ‘সুহৃদ’ নামের একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। ‘ছয় দশক পেরিয়ে তৌকীর আহমেদ’ শিরোনামের এই আয়োজন সম্পর্কে আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এক শিল্পীর জীবন, তার সৃষ্টিকর্ম ও সমাজ সচেতন দায়বোধকে নতুনভাবে অনুধাবনের একটি উপলক্ষ।
- বিষয় :
- তৌকীর আহমেদ
- নির্মাতা
