ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বাংলা সিনেমার বিভিন্ন যুগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রীতমের ‘দ্বিতীয় নায়ক’

বাংলা সিনেমার বিভিন্ন যুগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রীতমের ‘দ্বিতীয় নায়ক’
×

প্রীতম হাসান

আনন্দ প্রতিদিন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৩:৪৭ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১৩:৫৪

নিজের গাওয়া নতুন গান ও ভিন্নধর্মী উপস্থাপনায় আবারও আলোচনায় গায়ক ও সংগীত পরিচালক প্রীতম হাসান। তাঁর সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত গান ‘সেকেন্ড নায়ক’ দর্শক-শ্রোতার মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত বৃহস্পতিবার গানটি প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনলাইনে বেশ আলোড়ন তুলেছে। গানটির মিউজিক ভিডিওতে ভিন্নধর্মী গল্প, সিনেমাটিক নির্মাণশৈলীর কারণে এটি দ্রুতই আলোচনায় উঠে আসে।

ভিডিওচিত্রে এক নতুন সিনেমাটিক ইউনিভার্স তৈরির আভাস দিয়েছেন প্রীতম। গানটির কথা ও গল্পে তাঁর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন নুহাশ। এই সহযোগিতার কারণে গানটি শুধু একটি প্রেমের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে এক বহুমাত্রিক ক্যানভাস। মিউজিক ভিডিওর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক ‘অদৃশ্য প্রেমিক’–যিনি ভালোবাসেন নিঃশব্দে, প্রত্যাশা ছাড়াই। প্রীতমের চরিত্রটি এমন একজন মানুষের প্রতীক, যে প্রিয়জনের জীবনে কখনও প্রাধান্য পায় না, কিন্তু তবুও সরে দাঁড়ায় না। বরং প্রতিটি মুহূর্তে নিজেকে নতুন করে হাজির করে, নতুন রূপে, নতুন পরিচয়ে।

এই ‘সেকেন্ড নায়ক’ ধারণাটি বাস্তব জীবনের এক মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকেও সামনে আনে। যেখানে ভালোবাসা থাকে কিন্তু অধিকার থাকে না। গানের কথায়ও সেই বেদনা লক্ষ্য করা যায়। ‘এই মেয়ে, তোমাকে ভালোবেসে ফুল কিনে দিলে/ সে ফুল দিয়ে দাও আরেক ছেলের হাতে/ কিছু যায় আসে না আমার তাতে!’ এই স্বীকারোক্তির আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত আত্মসমর্পণ। দর্শক-শ্রোতা এখানেই নিজেদের খুঁজে পাচ্ছেন, তাই গানটি এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিউজিক ভিডিওটির দৃশ্যায়নে মিশে আছে বাংলা সিনেমার বিভিন্ন যুগের প্রতি শ্রদ্ধা। মহানায়ক উত্তম কুমারের সিনেমার দৃশ্য থেকে শুরু করে আধুনিক সময়ের গ্রামীণ পটভূমি–সবই এখানে রূপায়িত হয়েছে। ফলে ভিডিওটি একদিকে যেমন নস্টালজিক, অন্যদিকে তেমনি আধুনিক ও পরীক্ষাধর্মী।

ভিডিওতে প্রীতমকে দেখা গেছে একাধিক চরিত্রে। কখনও সিএনজিচালক, মাঝি, ট্রাকচালক, এমনকি পাইলট হিসেবেও। প্রতিটি চরিত্র যেন একেকটি অসম্পূর্ণ গল্পের টুকরো, যা শেষে এসে একই অনুভূতিতে মিলিত হয়। এই বহুরূপী উপস্থাপন কেবল ভিজুয়াল বৈচিত্র্য তৈরি করেনি, বরং চরিত্রটির ভেতরের অস্থিরতা ও আকাঙ্ক্ষাকেও দৃশ্যমান করেছে।

মিউজিক ভিডিওর চিত্রায়ণ, কালার গ্রেডিং এবং আর্ট ডিরেকশনের দিক থেকেও এটি সমসাময়িক মিউজিক ভিডিওগুলোর তুলনায় অনেক বেশি পরিশীলিত। আলো-ছায়ার ব্যবহার, ফ্রেম কম্পোজিশন এবং লোকেশন নির্বাচনে একটি স্পষ্ট সিনেমাটিক চিন্তা কাজ করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি বাংলাদেশি মিউজিক ভিডিও ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন একটি মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। ভিডিওতে আরও অভিনয় করেছেন মালাইকা চৌধুরী। তাঁর চরিত্রটি সংলাপনির্ভর না হলেও অভিব্যক্তির মাধ্যমে তিনি গল্পের আবেগকে শক্তিশালী করেছেন।

বিশেষ করে ‘প্রথম নায়ক’-এর প্রতি তাঁর আকর্ষণ এবং প্রীতমের প্রতি অবহেলার সূক্ষ্ম প্রকাশ ভিডিওটিকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। ভিডিওর শেষাংশে রাখা হয়েছে একটি চমক, যা পুরো প্রকল্পে আরও বড় কিছুর ইঙ্গিত দেয়। একটি নোটের মাধ্যমে ‘খোকা ২.০’-এর ঘোষণা দেন প্রীতম, যা তাঁর পুরোনো জনপ্রিয় গানের সিকুয়েল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হয়তো ধারাবাহিক গল্পভিত্তিক একাধিক মিউজিক ভিডিও নিয়ে একটি সংযুক্ত জগৎ তৈরি করতে যাচ্ছেন, যা বাংলা সংগীতে তুলনামূলকভাবে নতুন একটি ধারণা। সংগীতের দিক থেকেও ‘সেকেন্ড নায়ক’ বেশ সমৃদ্ধ। মেলোডি, লিরিক ও সাউন্ড ডিজাইনের মধ্যে একটি সুষম সমন্বয় রয়েছে। প্রীতম নিজেই গানটির মিউজিক প্রডাকশন ও কম্পোজিশন করেছেন, যা তাঁর নিজস্ব স্টাইলকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×