ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পরিচালকের আক্ষেপ, গানটি কানাই দাস শুনে যেতে পারলেন না

পরিচালকের আক্ষেপ, গানটি কানাই দাস শুনে যেতে পারলেন না
×

মেজবাউর রহমান সুমন ও কানাই দাস বাউল।

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১৮:৫৫

মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ সিনেমার দ্বিতীয় গান ‘মন ছাড়া কী মনের মানুষ রয়’ প্রকাশ পেয়েছে। গানটির রচয়িতা বাংলার লোকসংগীতধারার প্রখ্যাত বাউল সাধক মাতান চাঁদ গোস্বামী। আধ্যাত্মিক দর্শন, মানবিক অনুভূতি আর জীবনবোধে ভরপুর তাঁর গান বাংলা লোকসংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে বহুদিন ধরেই।

এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের তারাপীঠের কিংবদন্তি দৃষ্টিহীন বাউলশিল্পী কানাই দাস বাউল। তাঁর মায়াভরা, হাহাকার জাগানিয়া কণ্ঠ যেন গানটির প্রতিটি শব্দে ছড়িয়ে দিয়েছে এক গভীর আবেগ। মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা এই গান এখন নতুনভাবে পৌঁছে গেল শ্রোতাদের কাছে।

গানটির সংগীতায়োজন করেছেন ইমন চৌধুরী। দেশীয় লোকবাদ্যের আবহের সঙ্গে আধুনিক ওয়েস্টার্ন সাউন্ডের সংমিশ্রণে তিনি গানটিকে দিয়েছেন এক সমকালীন অথচ শিকড়নির্ভর আবহ। ফলে গানটিতে একইসঙ্গে ধরা পড়েছে গ্রামবাংলার মাটি ও আধুনিক সংগীত নির্মাণের নতুন ভাষা।

গানটি নিয়ে ইমন চৌধুরী বলেন, ‘মেজবাউর রহমান সুমন ভাইয়ের মতো একজন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতির। তবে এই কাজটি আমার কাছে আরও স্পেশাল, কারণ সদ্যপ্রয়াত কানাই দাস বাউলের কণ্ঠে আমরা একটি নতুন গান দর্শকদের সামনে আনতে পেরেছি।’

নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন জানান, বহু বছর ধরেই তিনি ‘মন ছাড়া কী মনের মানুষ রয়’ শুনে আসছেন। বিশেষ করে কানাই দাস বাউলের কণ্ঠে গানটির প্রতি ছিল তাঁর গভীর ভালোবাসা।

সুমনের ভাষায়, যখন রইদ-এর চিত্রনাট্য লিখছিলাম, তখন বারবার এই গানটি শুনতাম। কানাই দাস বাউলের কণ্ঠে এক ধরনের মায়া ছিল, যা আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিত।

আক্ষেপের সুরে নির্মাতা আরও বলেন, সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, গানটি প্রকাশ পেল তাঁর মৃত্যুর পর। খুব ইচ্ছা ছিল তাঁকে এই কাজটি শোনানোর। কিন্তু সেটা আর হলো না। তবু তাঁর সেই মায়াভরা কণ্ঠ আমাদের সিনেমার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে।

আরও পড়ুন

×