ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কন্যার জন্ম ভালোভাবে নেয়নি পরিবার, সেই শিশুটি আজ বড় তারকা

কন্যার জন্ম ভালোভাবে নেয়নি পরিবার, সেই শিশুটি আজ বড় তারকা
×

পূজা চোপড়া

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১৬:৩৫ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ১৭:৪৮

বলিউড অভিনেত্রী ও ২০০৯ সালের মিস ইন্ডিয়া পূজা চোপড়ার জন্মের পর তাকে অনাথ আশ্রমে দিয়ে দেওয়া কিংবা হত্যা করার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তার মা নীরা চোপড়া। সম্প্রতি রিয়েলিটি শো তুম হো ন– ঘরকি সুপারস্টারে গিয়ে জীবনের কঠিন সেই অধ্যায়ের কথা তুলে ধরেন তিনি।

নীরা জানান, বিয়ের পর প্রথম কন্যাসন্তান জন্মের পর পরিবারের আচরণ স্বাভাবিক থাকলেও দ্বিতীয়বার মা হওয়ার সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। শাশুড়ি তাকে বলেছিলেন, যদি ছেলে সন্তান জন্মায় তাহলে পরিবারের পরিবেশ আরও ভালো হবে।

সাত বছর পর দ্বিতীয় কন্যা হিসেবে পূজা চোপড়ার জন্ম হলে নীরার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, সন্তান জন্মের পর টানা তিন দিন হাসপাতালে তাকে দেখতে কেউ আসেনি। এমনকি নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাকও ছিল না। অন্য এক রোগীর পরিবারের সহায়তায় শিশুটির জন্য কাপড়ের ব্যবস্থা হয়।

নীরার ভাষ্য, প্রায় ১০ দিন পর তার স্বামী হাসপাতালে এলেও সন্তানের জন্মে কোনো আনন্দ প্রকাশ করেননি। বাড়ি ফেরার পর সন্তান জন্মের মাত্র ১১ দিনের মাথায় তাকে আবার বাড়ির কাজে নামতে বাধ্য করা হয়।

পূজা চোপড়া ও তার মা নীরা চোপড়া

সবচেয়ে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে নীরা জানান, পূজার জন্মের ২০ দিন পর থেকে প্রতিদিন তাকে বলা হতো শিশুটিকে শেষ করে দিতে অথবা অনাথ আশ্রমে রেখে আসতে। তবে একজন মা হিসেবে তিনি তা কখনোই মেনে নিতে পারেননি।

অবশেষে ২১ দিনের নবজাতক পূজাকে কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নীরা। ৮১ রুপি সঙ্গে নিয়ে বড় মেয়ে ও নবজাতককে নিয়ে কলকাতা থেকে মুম্বাইয়ে চলে যান তিনি। সে সময় তার বাবা-মা মুম্বাইয়ে থাকতেন।

মুম্বাইয়ে চাকরির খোঁজে এক পাঁচতারকা হোটেলে যান নীরা, সেখানে মোনা চাওলা নামে এক নারীর সঙ্গে দেখা হয়। নিজের অসহায় অবস্থার কথা জানানোর পর সেখানে তিনি চাকরি পান

প্রথম চাকরিতে তার বেতন ছিল মাত্র ৯০০ রুপি। সেই অর্থ দিয়েই দুই মেয়েকে নিয়ে সংগ্রামের জীবন শুরু করেন। প্রায় ছয় বছর কঠোর পরিশ্রমের পর গোয়ায় একটি ভালো চাকরি পান, যেখানে তার বেতন বেড়ে ৬ হাজার রুপিতে পৌঁছায়। সেখান থেকেই জীবনের মোড় ঘুরতে শুরু করে।

পূজা চোপড়া

আজ দুই মেয়ের সাফল্যে গর্বিত নীরা। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘যদি বারবার জন্ম হয়, তাহলে আমি ঈশ্বরের কাছে একই দুই মেয়েকে চাইব।’

শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার দিনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে এই মেয়ের জন্য ঘর থেকে বের করে দিয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম, একদিন এই মেয়ে আমাকে গর্বিত করবে। আজ সত্যিই আমার মেয়ে আমাকে গর্বিত করেছে।’

সূত্র: এনডিটিভি

আরও পড়ুন

×