‘একটা সময় শুনতাম নতুনরা সময়মতো সেটে আসে না, আমি এটি দেখিনি’
দীপা খন্দকার। ছবি: সংগৃহীত
এমদাদুল হক মিল্টন
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:৩৭
দীপা খন্দকার। অভিনেত্রী ও মডেল। সম্প্রতি সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় তাঁর অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘পথহারা মন’। এ ছাড়া ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ নামে একটি ওয়েব ফিল্মের কাজ শেষ করেছেন এই অভিনেত্রী। মুক্তি পাওয়া ওয়েব ফিল্ম ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে
‘পথহারা মন’ ওয়েব ফিল্মটি মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। কাজটি নিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া জানার সুযোগ হয়েছে?
অবশ্যই। একজন শিল্পীর জন্য দর্শকের প্রতিক্রিয়ার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। সামাজিক মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ নাটকটি নিয়ে লিখেছেন, ফোন করেছেন, মেসেজ দিয়েছেন। এটি একটি হৃদয় ছোঁয়া গল্প। অনেকেই বলেছেন নাটকের লাস্ট ১০ মিনিট তাদের বেশি ভালো লেগেছে। এমন আন্তরিক ভালোবাসা সত্যিই অনুপ্রাণিত করে।
নাটকটির সাড়া দেখে কী মনে হয়, দর্শক আবার পারিবারিক গল্পের দিকে ঝুঁকছে?
আমার তো মনে হয়, দর্শক কখনোই পারিবারিক গল্প থেকে দূরে সরে যায়নি। ভালো গল্পের অভাব ছিল। এখন নির্মাতারা পরিবার, সম্পর্ক, ভালোবাসা আর মূল্যবোধের গল্প নিয়ে কাজ করছেন। তাই মানুষ আবার সেই গল্পগুলো দেখছে এবং নিজেদের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছে। একটা সময় ছিল নায়ক নায়িকাদের নিয়ে গল্প তৈরি হতো। সেটা এখন আর নেই। দর্শক এখন গল্পের টানেই নাটক দেখে। সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে কাজগুলোও এখন দর্শক পছন্দের।
‘পথহারা মন’-এ আপনার চরিত্রটি নিয়ে আলাদা কোনো প্রস্তুতি ছিল?
‘এটা আমাদের গল্প’ নাটকের শেষের দিকে যখন শুটিং চলছিল তখনই নির্মাতা মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ‘পথহারা মন’ কাজটির কথা বলেছিলেন। আমার বিপরীতে কাকে নেবেন, সেটাও জানিয়েছেন। তখনই ফিল্মটির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। এই চরিত্রটির আবেগ, সম্পর্কের জায়গাগুলো খুব সূক্ষ্ম ছিল। পরিচালক চরিত্রটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই কাজ করেছি। মানুষ কাজটি এত পছন্দ করবে, এটি আশা করিনি।
‘হ্যাপিলি মেরিড’ ওয়েব ফিল্মটি নিয়ে কতটা আশাবাদী?
আমি খুব আশাবাদী। জাহিদ প্রীতমের এ ফিল্মের গল্পটি একেবারেই আলাদা। দাম্পত্য জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত, আর বাস্তবতার বিষয়গুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। দর্শক নিজেদের জীবনের অনেক কিছুই এই গল্পে খুঁজে পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।
বর্তমান প্রজন্মের অভিনেত্রীদের কাজ কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
নতুনদের সঙ্গেই আমি বেশি কাজ করছি। অনেকেই দুর্দান্ত কাজ করছেন। সিনিয়র হয়েও অনেক সময় ওদের কাছ থেকে আমি শিখি। তারা নিজেদের প্রস্তুত করছে, শেখার চেষ্টা করছে। একটা সময় শুনতাম, নতুনরা সময়মতো সেটে আসে না। আমি এটি দেখিনি।
সম্প্রতি ‘জাতীয় ফুফু’ পরিচিতি পেয়েছেন। বিষয়টি কতটা উপভোগ করেন?
(হাসি) সত্যি বলতে, বিষয়টি খুবই আবেগের। ‘এটা আমাদের গল্প’ নাটকটি আমার ক্যারিয়ারে অন্যরকম বাঁক এনে দিয়েছে। মানুষ যখন একটি চরিত্রকে এতটা আপন করে নেয়, তখন বুঝতে পারি আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। এই ভালোবাসা সবসময় মনে থাকবে।
এত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে কীভাবে প্রস্তুত রাখেন?
যতটা সম্ভব নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করি। নতুন গল্প পড়ি, মানুষের জীবন পর্যবেক্ষণ করি। কারণ অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষক হলো জীবন।
ভবিষ্যতে নিজেকে কোন ধরনের চরিত্রে দেখতে চান?
এখন সিগনিফিকেন্ট চরিত্রগুলোই করছি। এমন চরিত্র করতে চাই, যা দর্শকের মনে দীর্ঘদিন থেকে যাবে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের বৈচিত্র্যও বাড়ে। তাই নিজেকে বারবার নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ খুঁজি।
- বিষয় :
- দীপা খন্দকার
- অভিনেত্রী