ঢাকা রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে: রামেন্দু মজুমদার

এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে: রামেন্দু মজুমদার
×

রামেন্দু মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

এমদাদুল হক মিলটন

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৪৮

রামেন্দু মজুমদার। অভিনেতা, নির্দেশক ও সংগঠক। ৫৫ বছরের বেশি সময় ধরে মঞ্চনাটকে অভিনয় করছেন। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক। এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্মদিন আজ। দিনটি উদযাপন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এমদাদুল হক মিলটন

৮৬ বছরে পা রেখেছেন। আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। দিনটি কীভাবে কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন?
শুভেচ্ছার জন্য সমকাল পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ। এদিন ঘিরে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা নেই। কখনও ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন করি না। শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা জানান– এটিই ভালো লাগার। আমি সব সময় পারিবারিক আবহে জন্মদিন উদযাপন করার চেষ্টা করি। এবারও সে রকমই হবে। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে কোথাও খাওয়া-দাওয়া করি। এটিই আমাদের জন্মদিন উদযাপন।

জন্মদিন এলে কী উপলব্ধি হয়?
এই বয়সে জন্মদিন এলে মনে হয়, সময় ফুরিয়ে আসছে। সে অনুযায়ী কাজ করতে পারিনি। অনেক সময় অবহেলায় নষ্ট করেছি। অর্থহীন কাজ করেছি। যে কদিন বাঁচি, অর্থপূর্ণভাবে বাঁচতে চাই। সুস্থ শরীরে বাঁচতে চাই। এখনও অনেক কিছু করার বাকি আছে। এটি বুঝেও সক্রিয় হই না। একটু আলস্য আছে। কিছু স্বপ্নপূরণ এখনও বাকি। আরও কিছুদিন বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা আছে। 

জন্মদিন উপলক্ষে আপনার জীবনের নানা সময়ের ছবি নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হচ্ছে। এ উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাই।
আমার মেয়ে, অভিনেত্রী ও নির্দেশক ত্রপা মজুমদারের উদ্যোগে বইটি প্রকাশিত হচ্ছে। এটি প্রায় ২৫০ পৃষ্ঠার একটি বই। ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত আমার জীবনের বিভিন্ন সময় ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের ছবি নিয়ে বইটি প্রকাশিত হবে। আমার স্ত্রী ফেরদৌসী মজুমদারের ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষেও এ ধরনের একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। এবার আমার জন্মদিনে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘রামেন্দু মজুমদার: স্টেজিং আ লাইফটাইম’ মূলত একটি চিত্র-ইতিবৃত্ত। ব্যক্তি রামেন্দু মজুমদারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতির একটি সময়কে মলাটবদ্ধ করার এটি ছোট্ট প্রয়াস। আজ সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে বইটির মোড়ক উন্মোচন হবে। ইচ্ছাপূরণ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশিত হচ্ছে।

৫৫ বছর ধরে ‘থিয়েটার’ পত্রিকা সম্পাদনা করছেন। এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া কীভাবে সম্ভব হলো?
থিয়েটার পত্রিকাটি এতদিন ধরে চালাতে পেরেছি, এটি আমার একটি গর্বের জায়গা। শুরু থেকেই পত্রিকাটিকে দলীয় গণ্ডির মধ্যে রাখতে চাইনি। কারণ, এটি সবার পত্রিকা। চলার পথে সবার সহযোগিতা পেয়েছি। লেগেছিলাম বলে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও হতোদ্যম হইনি। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়েও পত্রিকাটি চালিয়ে আসছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের নবনাট্যচর্চার বিশ্বাসযোগ্য সহযাত্রী ‘থিয়েটার’। বাংলাদেশের প্রথম নাটকের পত্রিকা এটি। নাটকের ক্ষেত্রে পত্রিকাটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করি। পত্রিকাটি ৫৫ বছরে পড়েছে। এত বছর ধরে আমরা এটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছি। কলকাতার একজন গবেষক সম্পাদক রয়েছেন, যিনি এটি নিয়ে একটি বইও লিখেছেন। আমি প্রকাশনা ভালোবাসি। থিয়েটার পত্রিকা আমার একটি ভালোবাসার জায়গা। যতদিন সম্ভব, আমি এটি প্রকাশ করে যাব।

আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কী?
জীবন একটাই। সুতরাং জীবনকে ভালোবাসি। জীবনের উদযাপন হোক অর্থবহ। তাই জীবনকে যতটা সম্ভব কাজে লাগানো উচিত। সময় যেন অবহেলায় নষ্ট না করি। জীবন অনেক মূল্যবান। আমি বিশ্বাস করি, এ জীবন শুধু নিজের জন্য নয়, আশপাশের মানুষের জন্যও। মানুষের কতটা উপকারে আসছি, সেটিই জরুরি মনে করি। শুধু নিজের জন্য নয়; সবাইকে নিয়ে ভালোভাবে, আনন্দে বেঁচে থাকার নামই জীবন।

এই সময়ের ব্যস্ততা কী নিয়ে?
লেখালেখি করছি। নিজেকে সময় দিচ্ছি। আমার আত্মস্মৃতির দ্বিতীয় পর্ব লেখার কাজ করছি। লিখে আগে শেষ করি। তারপরই এর প্রকাশ নিয়ে ভাবব।

নতুন নাটকে অভিনয় নিয়ে কিছু ভাবছেন?
মৈত্রেয়ী দেবীর ‘ন হন্যতে’ উপন্যাস থেকে নতুন নাটক আসছে। এতে অভিনয় করব। শিগগিরই এর রিহার্সেল শুরু হবে। এটি মঞ্চে আসতে আরও চার মাস সময় লাগবে।

মঞ্চের এই সময়কে কীভাবে দেখছেন?
এখন বিভিন্ন ধরনের নাটক হচ্ছে। নতুন নাট্যকার ও নির্দেশকরা নাটক করছেন। এটি তরুণদের জন্য আশা জাগায়। তবে যে রকম দর্শক আমরা আশা করছি, সে রকম পাচ্ছি না। ঢাকাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ২০০ আসনের হলেও মঞ্চ প্রয়োজন। যেখানে গিয়ে দলগুলো নাটক করতে পারবে। তাহলে স্থানীয়ভাবে দর্শক গড়ে উঠবে। মিরপুর থেকে কারও পক্ষে শিল্পকলা কিংবা মহিলা সমিতিতে এসে নাটক দেখা খুবই কষ্টকর ও ব্যয়সাপেক্ষ। যত বেশি অবকাঠামো নির্মাণ হবে, তত বেশি নাটকের প্রসার ঘটবে।

নাট্যাঙ্গনে আপনি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। পেছন ফিরে তাকালে আপনি কী দেখতে পান?
স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে নবনাট্যচর্চা শুরু করেছি। নিয়মিত মাধ্যম হিসেবে নাটককে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। নতুন নতুন দর্শক তৈরি হয়েছে। পেছন ফিরে তাকালেই তৃপ্তি বোধ করি। আমি মফস্বল থেকে আসা একজন সাধারণ ছেলে। লক্ষ্মীপুরে বড় হয়েছি। নাটক মঞ্চায়নের জন্য সেখানে কোনো মিলনায়তন ছিল না। আমরা কাঁধে করে সুপারি গাছ নিয়ে মঞ্চ তৈরি করেছি। সেই আমি বিশ্ব নাট্য সংস্থার সভাপতিও হয়েছি কয়েকবার। একটা বিশাল পথ পাড়ি দিয়েছি। আমি যে আইটিআইর সভাপতি হতে পেরেছি, এর পেছনে কারণ হলো আমাদের নাট্যচর্চা। বিদেশ থেকে যারা আমাদের দেশে এসেছেন, তারা আমাদের দেশের নাটক দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।
জীবনে আমি কোনো কিছু ভেবে করিনি। যখন যা প্রয়োজন, সেই দাবি মিটিয়েছি। পথ চলতে কোনো কিছু প্রত্যাশা করিনি। মনোযোগ দিয়ে শুধু কাজ করে গেছি। যদি কোনো কিছু ভালো করে থাকি, তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম আমাকে মনে রাখবে– এটাই আমার প্রাপ্তি।

আরও পড়ুন

×