গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে সর্বকালের রেকর্ড, আয় ৫৮ হাজার কোটি টাকা
‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এর পোস্টার
রেন্ট্রাক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৪
শিশু থেকে শুরু করে বড়দের—সুপারহিরো সিনেমাপ্রেমীদের কাছে স্পাইডার-ম্যান বরাবরই জনপ্রিয়। বছরের পর বছর ধরে চরিত্রটির নানা গল্প ও সিনেমা দর্শকদের বিনোদন দিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। বাংলাদেশে সিনেমাটি মুক্তি পায় ৩০ জুলাই। মুক্তির পর দেশের দর্শকদের মধ্যেও সিনেমাটি বেশ সাড়া ফেলেছে। অনানুষ্ঠানিক বক্স অফিস ট্র্যাকিং অনুযায়ী, বাংলাদেশে মুক্তির ২৪ দিনে সিনেমাটি প্রায় ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা আয় করেছে।
বিশ্বজুড়ে ছবিটির সাফল্যের মধ্যেই এবার হলিউডের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসেও তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। রেন্ট্রাকের হিসাবে, ১ মে থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে টিকিট বিক্রি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ৪ দশমিক ৭৫৫ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ভেঙে গেছে।
এবারের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’, ‘দ্য ওডিসি’ ও ‘টয় স্টোরি ৫’। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৯২৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১১ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। বিশ্বজুড়ে ছবিটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
তবে আগের রেকর্ডের সঙ্গে তুলনায় দুটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। ২০১৩ সালের আয় মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। এ ছাড়া এবার গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের সময়কাল ছিল ১৩০ দিন, যেখানে ২০১৩ সালে ছিল ১২৩ দিন।
রেন্ট্রাকের হিসাবে, ইতিহাসে প্রথমবার গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের মে, জুন, জুলাই ও আগস্ট—চার মাসেই বক্স অফিস আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মে মাসে ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন, জুনে ১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন, জুলাইয়ে ১ দশমিক ১৮ বিলিয়ন এবং আগস্টে প্রায় ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।
‘দ্য ওডিসি’ও বড় সাফল্য পেয়েছে। ছবিটি উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৫৮৯ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে। আইম্যাক্সের আয়ই ছিল প্রায় ৪৮৬ মিলিয়ন ডলার।
শুধু বড় বাজেটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়, তরুণ দর্শকদের পছন্দের ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’-এর মতো ছবিও এবারের মৌসুমে ভালো ব্যবসা করেছে। এর ফলে মহামারির পর সিনেমা হলের দর্শক ফেরার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
তবে সব ছবি সমান সাফল্য পায়নি। ‘ফল ২: ডেডপয়েন্ট’ ও ‘অনসলট’ প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবসা করতে পারেনি। অন্যদিকে ‘কায়োটি বনাম অ্যাকমি’ দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে বক্স অফিসে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসের এই রেকর্ডকে মহামারির পর হলিউডের সিনেমা ব্যবসার বড় প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
- বিষয় :
- হলিউড