ঢাকা বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার দাবি জেরার্ড জোন্সের

মৃত্যুর হুমকি পাওয়ার দাবি জেরার্ড জোন্সের
×

জেরার্ড জোন্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০১

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভরাডুবি হয় বাংলাদেশ দলের। প্রতিযোগিতার তিন ম্যাচে জয়হীন দলটি হজম করে ৮ গোল। অনেকের কাছে ব্যর্থতার বড় কারণ দুই কোচের দ্বন্দ্ব। টানা দুই ম্যাচে হারের পর বরখাস্ত করা হয় জেরার্ড জোন্সকে। তাঁর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো আতিকুর রহমান মিশু কোচ হিসেবে দাঁড়ান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। ব্যর্থ টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের চেয়ে ফের আলোচনায় মাঠের বাইরের ইস্যু। এবারও ব্যক্তি বাংলাদেশ যুব দলের সাবেক কোচ জেরার্ড জোন্স। 

বরখাস্তের চার দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে আবারও তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছেন। জোন্স লিখেছেন, ‘ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা ন্যায্য। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কিছু বাজে বার্তা পেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করা হয়েছে এবং মেরে ফেলার হুমকিও পেয়েছি। আমি একজন স্বামী, একজন বাবা এবং একজন সন্তান।’

জেরার্ড জোন্সকে ঠিক কী কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তবে গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা এবং ফল বিপর্যয়ের জেরে জোন্সকে সরানো হয়েছে। সেদিন সহকারী কোচের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত গড়ায়। পরে জোন্স নিজে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশ ডাকেন। এদিকে জোন্স তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের হয়ে কাজ করার সময়টাকে শুধু ফলাফলের দৃষ্টিতে দেখতে রাজি নন। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে আমি শুধু জাতীয় দলের ফলাফল নিয়ে কাজ করতে যাইনি। যুব উন্নয়ন, কোচ তৈরি, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার মতো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সময় ছিল খুব কম।’ 

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে প্রায় ৯ সপ্তাহ কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন জোন্স। তাঁর অধীনে অনুশীলনে দলের উন্নতিও দেখেছিলেন তিনি। বল দখল, আক্রমণে বৈচিত্র্য, বক্সে প্রবেশ, হাই প্রেসিং ও কাউন্টার প্রেসিংয়ে দল ভালো করছিল বলে দাবি জোন্সের। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে সে পরিকল্পনা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। জোন্স দাবি করেছেন, ‘অনুশীলনে আমরা যে ফুটবল তৈরি করেছিলাম, মাঠে সেটি ধারাবাহিকভাবে খেলতে পারিনি। দলটি আমাদের প্রস্তুতির সময় যে নীতিগুলো তৈরি করেছিল, তার তুলনায় অনেকটাই অচেনা হয়ে গিয়েছিল।’ 

তবে দুটি ম্যাচের ফল দিয়ে নিজের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারকে বিচার করতে চান না জোন্স। প্রায় দুই দশকের কোচিং অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘এই সময়ের কাজ ও অর্জন দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফলাফলে মুছে যাওয়ার নয়।’ 

বাংলাদেশের ফুটবলের কাঠামো নিয়েও নিজের মূল্যায়ন দিয়েছেন তিনি। জোন্সের মতে, ‘এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে খেলোয়াড় বাছাই, অবকাঠামো, ফুটবল সংস্কৃতি ও উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন।’ দলে না থেকেও বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও ফুটবলের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন

×