ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

সাংবাদিকদের গালিগালাজ-হুমকি

বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা ও প্রতিবাদ

বিভিন্ন সংগঠনের নিন্দা ও প্রতিবাদ
×
×

কোলাজ সমকাল

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:১১ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ২০:৫৭

আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে গালাগাল ও হুমকি দেওয়াসহ পরীমণির সঙ্গে থাকা বডিগার্ডদের মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলা প্রতিবাদে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ), মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) এবং ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চারটি সংগঠনের পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আদালত প্রাঙ্গণে দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার এবং মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমআরএ) সদস্য সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজুকে প্রকাশ্যে হেনস্তা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)।

ঘটনার ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায়, চিত্রনায়িকা পরীমণি সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজুকে উদ্দেশ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন এবং তাঁকে হুমকি দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে থাকা বডিগার্ডদের মাধ্যমে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

এমআরএ সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এভাবে প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও হুমকির শিকার হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের পেশাগত নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু প্রকাশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বডিগার্ড দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।

এদিকে একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ) বলেছে, একজন অভিনেত্রী হিসেবে পরীমণি আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ কিংবা নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে হেনস্তার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ডিআরএফ মনে করে, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ শুধু তাদের পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। ঘটনার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ডিআরএফ অবিলম্বে পরীমণি ও তাঁর নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কেড়ে নেওয়া মোবাইল ফোনসহ সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ফেরত দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি আহত সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছে।

এদিকে সাংবাদিকদের গালিগালাজ-হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু প্রকাশ্যে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বডিগার্ড দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এমআরইউ মনে করে, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, হুমকি ও হামলার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে সংকুচিত করে। বিশেষ করে আদালত প্রাঙ্গণের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, আহত সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলা ও হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল ইসলাম রাজুকে প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও অপমান করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠন ইয়ুথ জার্নাল।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, একজন গণমাধ্যমকর্মীকে দায়িত্ব পালনকালে এভাবে হেনস্তা করা শুধু ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের মর্যাদার ওপর আঘাত। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। প্রকাশ্যে অপদস্থ করা কিংবা গালিগালাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ঘটনাটি ঘিরে পরীমণির পক্ষ থেকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা প্রমাণের আগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা তাঁর ওপর জনসমক্ষে অপমানজনক আচরণ করা ন্যায়সংগত নয়।

ইয়ুথ জার্নাল আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের নীরবতা এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান প্রতিবাদ না আসা হতাশাজনক। একজন সহকর্মী হেনস্তার শিকার হলে সাংবাদিক সমাজের দায়িত্ব তাঁর পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে সোচ্চার হওয়া।

ইয়ুথ জার্নাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রাজুর নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছে।

আরও পড়ুন

×