ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

'মারা যাওয়ার পর সবার কাছে এটিএমের প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে'

'মারা যাওয়ার পর সবার কাছে এটিএমের প্রয়োজনও ফুরিয়ে গেছে'
×

কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০২:৪৪ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০২:৪৪

কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের জন্মদিন আজ। বেঁচে থাকলে ৮১ বছরে পা রাখতেন তিনি। ১৯৪৩ সালে নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এটিএম শামসুজ্জামান।

প্রয়াত এ অভিনেতার বিশেষ এই দিনে যোগাযোগ করা হয় তার স্ত্রী রুনি জামানের সঙ্গে।  ক্ষোভ আর হতাশা মিশ্রিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বেঁচে থাকতে সবাইতো খোঁজ খবর নিতেন। অসুস্থ হয়ে যখন বাসায় বসে গেলেন, তখনও অনেকেই খোঁজ নিয়েছেন। মানুষটা মরে গেলো, আর সাথে সাথেই তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলো। কেউ তাকে মনে রাখার প্রয়োজন বোধ করলেন না। এতো দ্রুত সবাই তাকে ভুলে গেলো!’

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান  এ টি এম শামসুজ্জামান। তিনি চলে যাওয়ার পর প্রথম জন্মদিন আজ। দিনটি কিভাবে উদযাপন করছেন জানতে চাইলে রুনি জামান বলেন, ল্পপরিসরে আয়োজন রেখেছেন। দুপুরে এতিম ছেলেমেয়েদের খাওয়ানোর ব্যবস্থাও রেখেছেন।

রুনি জামান বলেন, 'নাটক, সিনেমার জন্য সারাটা জীবন দিয়ে গেলেন। নিজের স্বার্থে কিচ্ছু চিন্তা করেননি, নাটক সিনেমাকে সব দিয়ে গেলেন। অথচ তার মৃত্যুর পর কেউ সামান্য খোঁজ খবরটাও নিলেন না। অন্তত নাটক সিনেমার মানুষরাতো তার পরিবারের খোঁজ খবর নিতে পারতেন! হয়তো এটাই বাস্তবতা।”

শামসুজ্জামানের চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয় কৌতুক অভিনেতা হিসেবে। জলছবি, যাদুর বাঁশি, রামের সুমতি, ম্যাডাম ফুলি, চুড়িওয়ালা, মন বসে না পড়ার টেবিলে চলচ্চিত্রে তাকে কৌতুক চরিত্রে দেখা যায়। তার অভিনয় জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় আমজাদ হোসেনের 'নয়নমণি' চলচ্চিত্রটি। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন।

তার দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনের শুরু ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর 'বিষকন্যা' চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে। প্রথম কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন 'জলছবি' চলচ্চিত্রের জন্য। ছবির পরিচালক ছিলেন নারায়ণ ঘোষ মিতা, এ ছবির মাধ্যমেই অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রে অভিষেক। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন। '

অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র পর্দায় আগমন ১৯৬৫ সালের দিকে। ১৯৭৬ সালে চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনের নয়নমণি চলচ্চিত্রে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৮৭ সালে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তিনি রেদওয়ান রনি পরিচালিত 'চোরাবালিতে' অভিনয় করেন ও শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব-চরিত্রে অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয় বার, তার মধ্যে দায়ী কে? (১৯৮৭) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে; ম্যাডাম ফুলি (১৯৯৯), চুড়িওয়ালা (২০০১) ও মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা বিভাগে এবং চোরাবালি (২০১২) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে পুরস্কৃত হন।

এছাড়া, ৪২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সময় তিনি আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছিলেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত হন।

আরও পড়ুন

×