এবার নতুন কোন পরিচয় নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি-মেগান?
প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ছবি: এপি
বিবিসি
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:২৩ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ২০:৩২
রাজপরিবার থেকে আলাদা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। এবার যুক্তরাজ্যে ফিরছেন তারা। আর এই ফেরার সময় নিজেদের জন্য এমন একটি পরিচিতি বা ব্র্যান্ড তৈরি করতে চাইছেন, যা দীর্ঘদিন টিকে থাকবে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২০ সালে রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর ক্যালিফোর্নিয়ায় পাড়ি জমান হ্যারি ও মেগান। এরপর বিনোদন, পডকাস্ট, জীবনযাপনধর্মী পণ্য ও দাতব্য কাজসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। তবে এসব উদ্যোগের বেশির ভাগই প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি বলে মনে করছেন ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞরা।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঈদ বিজনেস স্কুলের বিপণন বিশেষজ্ঞ অ্যান্ড্রু স্টিফেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর হ্যারি-মেগান বিপুল মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন এবং শুরুতে সেই জনপ্রিয়তা থেকে আয়ও করতে পেরেছিলেন। তবে সেই সাফল্যকে দীর্ঘস্থায়ী একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারেননি তারা।
তার মতে, বর্তমানে এই দম্পতির কাজের পরিধি অনেকটাই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে-সামাজিক কর্মকাণ্ড, বিনোদন ও জীবনযাপন-সবকিছু মিলিয়ে তাদের ব্র্যান্ড আসলে কী, তা স্পষ্ট নয়।
২০২০ সালে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে হ্যারি-মেগানের প্রায় ১০ কোটি ডলারের চুক্তির খবর প্রকাশিত হয়েছিল। একই বছর স্পটিফাইয়ের সঙ্গে তাদের পডকাস্ট চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় আড়াই কোটি ডলার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই উদ্যোগের কোনোটিই বড় সাফল্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
নেটফ্লিক্সের সঙ্গে পাঁচ বছরে হ্যারি-মেগানের পাঁচটি অনুষ্ঠান তৈরি হয়। এর মধ্যে ছিল ‘হ্যারি এন্ড মেগান’ এবং জীবনযাপনধর্মী অনুষ্ঠান ‘উইথ লাভ মেগান’। তবে দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। গত বছর নেটফ্লিক্সের সঙ্গে আগের চুক্তির বদলে তাদের নতুন প্রস্তাবগুলোতে ‘ফার্স্ট লুক’ দেওয়ার ধরনের একটি ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালে স্পটিফাই ও হ্যারি-মেগানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আর্চওয়েল জানায়, তারা পারস্পরিক সম্মতিতে আলাদা হয়ে যাচ্ছে।
এখন যুক্তরাজ্যে ফেরার কারণে তাদের সামনে নতুন সুযোগ যেমন তৈরি হতে পারে, তেমনি ঝুঁকিও রয়েছে। কারণ, রাজপরিবার থেকে দূরে গিয়ে নিজেদের আলাদা পরিচিতি তৈরির চেষ্টা করলেও যুক্তরাজ্যে ফিরলে আবারও তাদের পরিচয়ের সঙ্গে রাজপরিবারের সম্পর্ক সামনে চলে আসবে।
ব্র্যান্ড বিশেষজ্ঞ সুসান ফুর্নিয়ের বলেন, হ্যারি-মেগান একসময় রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন, পরে রাজপরিবারের সমালোচক হয়েছেন। এরপর তারা মিডিয়া প্রযোজক ও জীবনযাপনধর্মী ব্র্যান্ডের উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছেন। বারবার এমন পরিবর্তন একটি ব্র্যান্ডের পরিচিতিকে দুর্বল করে।
তবে যুক্তরাজ্যে ফেরার মধ্যেই নতুন সম্ভাবনা দেখছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকা কটসওল্ডসে বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। মার্কিন স্টাইলিস্ট ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর লরা স্টলফের মতে, কটসওল্ডসের ইংলিশ কান্ট্রি লাইফের সঙ্গে মেগানের জীবনযাপনধর্মী ব্র্যান্ডের ভালো মিল হতে পারে।
এদিকে মেগানের অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। নেটফ্লিক্সের ‘দ্য জেন্টেলম্যান’ সিরিজে তার অভিনয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এটি হলে হ্যারিকে বিয়ে করার পর বড় কোনো অভিনয় ভূমিকায় এটাই হতে পারে তার প্রথম কাজ।
মেগানের বর্তমান প্রধান উদ্যোগ 'এজ এভার' নামের জীবনযাপনধর্মী ব্র্যান্ড। এতে জ্যাম, চা, মোমবাতিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার পরও ব্র্যান্ডটি চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ স্টিফেনের মতে, যুক্তরাজ্যে ফিরে আসা হ্যারি-মেগানের ব্র্যান্ডকে নতুন করে সাজানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে শুধু কোথায় থাকছেন, সেটি দিয়ে কোনো ব্র্যান্ডের অবস্থান বদলায় না; 'আচরণই শেষ পর্যন্ত একটি ব্র্যান্ডকে নতুন পরিচয় দেয়।'