ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

আখ না পাওয়াই প্রধান সমস্যা

আখ না পাওয়াই প্রধান সমস্যা
×

মো. শাহজাহান কবির, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঠাকুরগাঁও সুগার মিল

শেখ আবদুল্লাহ

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২২ | ২৩:৪২

কাঁচামাল বা পর্যাপ্ত আখ না পাওয়াই রাষ্ট্র মালিকানাধীন চিনিকলগুলোর প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া কারখানার পুরোনো যন্ত্রপাতি, আখের উন্নত জাত না থাকা, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বেসরকারি ও সরকারি খাতের বিপণন বৈষম্যের কারণেও রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিগুলো ঠিকমতো এগোতে পারছে না।
সরকারি চিনিকলগুলোর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি সমকালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান কবির। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে তিনি সদ্য যোগদান করেছেন। এর আগে তিনি রাজশাহী চিনিকলের দায়িত্বে ছিলেন।

শাহজাহান কবির বলেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি- এই চার মাস হচ্ছে চিনিকলগুলোর মূল মৌসুম। চিনিকলগুলো যদি বছরে ১২০ দিন টানা উৎপাদনে থাকতে পারে, তাহলে পুরো সক্ষমতা কাজে লাগানো যায়। কিন্তু মিলগুলোতে পর্যাপ্ত আখ আসছে না। এর কারণ আখের চাষ কমে যাচ্ছে, যা চাষ হচ্ছে তার একটি অংশ চাষিরা ভাঙিয়ে গুড় বানাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের বার্ষিক প্রতিষ্ঠাকালীন উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার ২৪০ টন। বর্তমানে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ টন চিনি উৎপাদন সম্ভব। সে অনুযায়ীও আখ পাওয়া যায় না। সবশেষ মৌসুমে মিলটি ৫০ দিনের মতো চলেছে। এর পর আর আখ পাওয়া যায়নি। প্রতিদিন এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টন আখ মাড়াই করা হয়েছে। উৎপাদন কম হলে কারখানা লোকসানে পড়বে এটা স্বাভাবিক।

শাহজাহান কবির বলেন, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের যন্ত্রপাতির বয়সও কারখানার সমান। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে এসব মেশিনারিজ। আবার আখের চাষ কমে যাচ্ছে। চাষিরা আলু, ভুট্টা ও তরমুজের চাষে ঝুঁকছেন। বেড়েছে গমের চাষও। উচ্চ ফলনশীল ধান ও সবজির চাষ হচ্ছে। এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষও বেড়েছে। বিশেষ করে আম ও লিচু চাষ করছেন অনেক চাষি। ফলে আখই এখন আর কৃষকদের কাছে একমাত্র অর্থকরী ফসল নয়। তবে চাষিদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) থেকে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বীজ, জৈব ও রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও সেচ বাবদ টাকা দেওয়া হয় আখচাষিদের। পুঁজিও দেওয়া হচ্ছে। এ বছর চাষিদের পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হয়েছে। আখ আনার ব্যবস্থা আরও সহজ করা হয়েছে।

এর বাইরে আর কী করা যেতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাষিদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষির অন্যান্য খাতের মতো করে আখ চাষেও ভর্তুকি সুদে ঋণ দেওয়া যেতে পারে। কারণ আখ চাষে সময় বেশি লাগে। এক মৌসুম আখ চাষের পাশাপাশি কৃষকরা অন্য ফসল দু'বার করতে পারেন।

কারখানাকে লোকসানের বৃত্ত থেকে বের করতে কী করা যেতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান কবির বলেন, সবার আগে আখের চাষ বাড়াতে হবে। কারখানায় আখের সরবরাহ বাড়লে চিনির উৎপাদন বাড়বে। এতে লোকসান কমে আসবে। এ ছাড়া কারখানার মানোন্নয়ন করা দরকার। এ জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ও করপোরেশন চেষ্টা করছে। তবে এক দিনেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে তা নয়। এ জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যেতে হবে।
সাক্ষাৎকার দুটি নিয়েছেন শেখ আবদুল্লাহ

আরও পড়ুন

×