ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়াল সুহৃদ

অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়াল সুহৃদ
×

রমজানের মা-বাবার হাতে পাঁচ হাজার টাকা ও একটি হুইলচেয়ার তুলে দেন কিশোরগঞ্জের সুহৃদরা

সাইফুল হক মোল্লা দুলু

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২২ | ০০:৫৮

জন্ম থেকেই রমজান ছিল শারীরিক ও বাক-প্রতিবন্ধী। এখন তার বয়স সাড়ে চার বছর। হতদরিদ্র পিতা-মাতার পক্ষে এই শিশুর উপযুক্ত চিকিৎসা করার কোনো সাধ্য নেই। বাবা দুদু মিয়া অন্যের ইজিবাইক চালিয়ে সামান্য যা আয় করেন, তা দিয়ে সংসার খরচই চালাতে পারেন না। মাত্র আধা শতাংশের ভিটাতে ছোট্ট একটি মাটির চালা তুলে স্ত্রী, দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে দুদুর সংসার। তার দ্বিতীয় সন্তান রমজান জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। সে হাঁটাচলা এমনকি সোজা হয়ে বসতেও পারে না। মা জেসমিন আক্তারের এই শিশুর পেছনেই ব্যস্ত থাকতে হয়। কেবল গৃহস্থালি কাজের সময় শিশু রমজানকে একটি বালতির মধ্যে বসিয়ে রেখে তিনি ঘরের কাজকর্ম করেন।

শিশু রমজানের এই কষ্টময় জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর জানতে পেরে এবং সমকালে সচিত্র প্রতিবেদন দেখে কিশোরগঞ্জ সমকাল সুহৃদের উপদেষ্টা ও সদস্যরা ১২ এপ্রিল হোসেনপুর উপজেলার ধুলজুরি গ্রামে দুদু মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে শিশু রমজানের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা দেখে উপস্থিত সবাই আবেগ ও অনুক্ত কষ্টে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। এ সময় সুহৃদের পক্ষ থেকে শিশু রমজানের মা-বাবার হাতে পাঁচ হাজার টাকা ও একটি হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সুহৃদ উপদেষ্টা ছড়াকার জাহাঙ্গীর আলম জাহান, সম্পাদক আসলামুল হক আসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাখি গোপাল দেবনাথ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সৈয়দ হোসেন, সাংবাদিক জাকির হোসেন, আবদুল কাদির ও সাগর আহমেদ।

সহায়তা পেয়ে শিশু রমজানের মা-বাবা আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, বালতিতে বসে রমজানের দিন কাটত। হুইলচেয়ার পাওয়ায় সে এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারবে। ইউপি সদস্য সৈয়দ হোসেন বলেন, রমজানের বাবা ভাড়ায় ইজিবাইক চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন। তার জন্য একটি ইজিবাইকের ব্যবস্থা করা গেলে সে উপকৃত ও স্বাবলম্বী হবে।

মাত্র আধা শতাংশ ভূমির ওপর ছোট্ট মাটির ঘরে দুদু মিয়া পরিবার নিয়ে থাকেন। তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, তাদের জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা গেলে দুর্বিষহ জীবনে কিছুটা শান্তি আসত। উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল সমকালে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে ঢাকার ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা খন্দকার এমদাদুল হক এই শিশুর জন্য একটি হুইলচেয়ার পাঠান। এর সঙ্গে কিশোরগঞ্জের সুহৃদরা নিজস্ব উদ্যোগে পাঁচ হাজার টাকাসহ চেয়ারটি রমজানের মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন

×