ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই

লিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
×

এম. সাইফুজ্জামান তাজু

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২২ | ২২:০৪

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের স্ত্রী লিয়া পারভীন। ছয় বছর আগে তাঁকে ছেড়ে নিরুদ্দেশ হন স্বামী। দুই মেয়ে, এক ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। যোগাযোগ করেন স্থানীয় মহিলাবিষয়ক দপ্তরে। সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। কেঁচো সারের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করেন এর উৎপাদন কাজ। এখন স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন লিয়া।

লিয়া পারভীনের দুই মেয়ের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। বর্তমানে তিনি শহরের পুরাতন মসজিদপাড়া এলাকায় বসবাস করছেন। সেখানেই ১০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তুলেছেন কেঁচো সারের কারখানা। প্রথমে ১৫টি চাড়ি (মাটির পাত্র) দিয়ে শুরু হলেও এখন তাঁর কারখানায় রয়েছে ২৫০টি চাড়ি। করোনাকালে দুই বছর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় তাঁকে এ কাজে সহযোগিতা করেন মেয়ে জেসমিন আক্তার। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগে মাস্টার্সে পড়ছেন।

জেসমিন আক্তার বলেন, "আমার মা অনেক কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাঁর জীবনের একটা দীর্ঘ সময় সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটেছে। এখনও তিনি আমাদের জন্য সংগ্রাম করছেন। ২০১৮ সালের শেষদিকে মাকে কেঁচো সারের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে দেখে আমার মনে একটা আশার সঞ্চার হয়। ২০২০ সালে করোনাকালে দীর্ঘ একটা ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসে মাকে পুরোদমে সহযোগিতা করতে থাকি। 'স্বপ্নজয়ী ইন্টারন্যাশনালস লিমিটেড' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলি। অনলাইনে একটি পেজ খুলে সেখানে জৈব সারের গুণ তুলে ধরি। এর পরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কিছু কেঁচো সারের অর্ডার পাই। সেই থেকে এর উৎপাদনে আমার মায়ের পথচলা শুরু।"

লিয়া পারভীন জানান, ২০১৮ সালে স্থানীয় মহিলা দপ্তরের আইজিএ প্রকল্প থেকে কেঁচো সারের (ভার্মি কম্পোস্ট) ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে কারখানা গড়ে তুলেছেন। এতে তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। মহিলাবিষয়ক ও কৃষি দপ্তর থেকে ঋণ আর মানুষের কাছ থেকে অনুদান নিয়ে গড়ে তোলেন এই কারখানা। ২০২১ সাল থেকে এই সার বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। এ থেকে এখন প্রতি মাসে তাঁর আয় ৮-১০ হাজার টাকা। বিভিন্ন এলাকা থেকে পান ও সবজিচাষিরা তাঁর কাছ থেকে কেনেন এই কেঁচো সার। বাসাবাড়িতে ছাদ বাগান গড়ে তুলতেও এই সার ব্যবহার করছেন অনেকে। এর সঙ্গে নকশিকাঁথা থেকেও মাসে ৫-৭ হাজার টাকা আয় হয় তাঁর। তবে এই আয়ে সন্তানদের পড়াশোনা আর সাংসারিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে। ফলে বাড়াতে চান এর পরিধি।

লিয়া জানান, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পান ও সবজিচাষিরা তাঁর কাছ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে এই কেঁচো সার কিনে নেন। আবার কয়েকজন ছাদবাগানি আছেন, যাঁরা তাঁর কাছ থেকে এই সার কিনছেন। তবে উৎপাদনের তুলনায় বিক্রি কম। বাণিজ্যিকভাবে এই সার বাজারজাত করে তিনি স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। া

আরও পড়ুন

×