ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস

সঞ্চয়ে স্বাবলম্বী

সঞ্চয়ে স্বাবলম্বী
×

কিছু আলো নীল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২২ | ২৩:০৭

আমরা বাঙালি স্বভাবগতভাবেই একটু অমিতব্যয়ী। অর্থ জমানো বা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে আমারা বেশ অনীহ। সঞ্চয়ের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই জ্ঞাত। তবু সঞ্চয় করার মানসিকতা নেই। 'মিতব্যয়িতা' ও 'কৃপণতা' শব্দ দুটি আলাদা হলেও আমরা মাঝেমধ্যে গুলিয়ে ফেলি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতাকে কৃপণতা হিসেবে প্রচার করা হয়। আপনি সারাজীবন কষ্ট করে উপার্জন করলেন, কিন্তু কোনো সঞ্চয় করতে পারলেন না। শেষ বয়সে যদি আপনাকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয়, তাহলে সেই উপার্জনের কোনো মূল্য থাকে না।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সঞ্চয়ের প্রবণতা দেখা যায়। এমনকি এই সঞ্চয়কে সর্বস্তরে পৌঁছাতে সারাবিশ্বে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব সঞ্চয় দিবস বা বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস। এ দিবসের তাৎপর্য হলো, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের গুরুত্ব সবার কাছে উপস্থাপন করা। বর্তমানে যুদ্ধ, আর্থিক মন্দা, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে ভবিষ্যতের শঙ্কা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে সঞ্চয়ের গুরুত্ব আরও বেশি। তাই এর সঙ্গে মিল রেখে এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- 'সঞ্চয় আপনাকে একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে'।

বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো সঞ্চয় দিবস পালনে বিশেষ জোর দিয়ে থাকে। এসব দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানুষকে সঞ্চয়ী করে তোলার পেছনে যেমন রয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের সুরক্ষিত জীবনের নিশ্চয়তা, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তিতে গড়ে তোলার প্রয়াস।

১৯২১ সালে সর্বপ্রথম স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে 'জাতীয় সঞ্চয় দিবস' পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ১৯২৪ সালে ইতালির মিলান শহরে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকের প্রতিনিধি। ২৯টি দেশের প্রতিনিধি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও দৃঢ় করতে; মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি করতে ও মানুষের মনে সঞ্চয়ের ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সহমত পোষণ করেন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের শেষ দিনটিকে বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরের বছর ১৯২৫ সালে সর্বপ্রথম বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস পালন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে পালন করা হয় দিবসটি।
প্রাণিকুলে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, তাদের মাঝেও সঞ্চয়ের প্রবণতা রয়েছে। যদি পিঁপড়ার কথাই বলি, তাহলে দেখা যাবে তারা শীত আসার আগেই তাদের খাবারের মজুত করে রাখে যেন শীতে কষ্ট করতে না হয়। সঞ্চয়ের প্রবণতা কিছু প্রাণীর সহজাত ধর্ম। অন্যদিকে দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষের সঞ্চয়ের শিক্ষা।

সঞ্চিত অর্থ বা আগামী দিনের জন্য সঞ্চয় আপনাকে দিতে পারে একটি সুরক্ষিত এবং চিন্তামুক্ত জীবন। ব্যক্তিগত সঞ্চয় একজন মানুষ বা একটি পরিবারের আর্থিক সুরক্ষাই নিশ্চিত করে না; দেশের অর্থনীতিকেও দৃঢ় করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিভিন্ন দেশে জাতীয় সঞ্চয় দিবস জনপ্রিয়তা পেতে থাকে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রাখতে শুরু করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অস্ট্রিয়ায় সঞ্চয়ের অফিসিয়াল ম্যাসকট 'স্পেয়ারফ্রো', যার ইংরেজি অর্থ 'হ্যাপি সেভার'। এমনকি ১৯৭০ সালে ছোটদের শিক্ষামূলক পত্রিকা 'স্পেয়ারফ্রো জার্নাল' -এর প্রচার সংখ্যা চার লাখ কপি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। 

আরও পড়ুন

×