ঋত্বিক ঘটকের আকাশগঙ্গার স্রোত ধরে
×
ঋত্বিক কুমার ঘটক [জন্ম :৪ নভেম্বর ১৯২৫, মৃত্যু :৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬]
--
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০
ঋত্বিক কুমার ঘটক, যিনি ঋত্বিক ঘটক হিসেবেই সচরাচর অভিহিত, (জন্ম : ৪ নভেম্বর ১৯২৫ - মৃত্যু : ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬) বিংশ শতাব্দীর একজন খ্যাতিমান বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর জন্ম অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গের (বর্তমান বাংলাদেশের) রাজশাহী শহরের মিয়াঁপাড়ায়। ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ এবং ১৯৪৭-এর ভারত বিভাগের পরে পূর্ববঙ্গের প্রচুর লোক কলকাতায় আশ্রয় নেয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে যায়। শরণার্থীদের অস্তিত্বের সংকট তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে এবং পরবর্তী জীবনে তাঁর চলচ্চিত্রে এর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। ঋত্বিক ঘটক তাঁর প্রথম নাটক 'কালো সায়র' লেখেন ১৯৪৮ সালে। ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন নিমাই ঘোষের 'ছিন্নমূল' (১৯৫১) সিনেমার মধ্য দিয়ে; তিনি একই সঙ্গে অভিনয় এবং সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এর দু'বছর পর তাঁর একক পরিচালনায় মুক্তি পায় 'নাগরিক'। দুটি চলচ্চিত্রই ভারতীয় চলচ্চিত্রের গতানুগতিক ধারাকে জোর ঝাঁকুনি দিতে সমর্থ হয়েছিল। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে 'মেঘে ঢাকা তারা' (১৯৬০), 'কোমল গান্ধার' (১৯৬১) এবং 'সুবর্ণরেখা' (১৯৬২) অন্যতম; এই তিনটি চলচ্চিত্রকে ট্রিলজি বা ত্রয়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত 'তিতাস একটি নদীর নাম' ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় চলচ্চিত্রে রূপদান সম্পন্ন হয়। 'তিতাস একটি নদীর নাম' চলচ্চিত্র আকারে মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে। ২০০৭ সালে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের করা দর্শক, চলচ্চিত্র সমালোচকদের ভোটে এ চলচ্চিত্রটি সেরা বাংলাদেশি ছবির মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে। ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে শিল্পকলায় পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করেন। সিনেমা, নাটকের পাশাপাশি গল্পেও তিনি করেছেন গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ঋত্বিক ঘটকের গল্পসংগ্রহ বইয়ের, 'আকাশগঙ্গার স্র্রোত ধরে' গল্পের কিছু অংশ দেওয়া হলো-
অরণ্যের একটা আত্মা আছে। তবে ঘাসে ঘাসে, পাতায় পাতায়, তার রাত্রির শাখাময় জটাজালে, তার খর মধ্যাহ্নের জ্বালাময় দীপ্তির মধ্যে, তার অজস্র পর্ণ-ঢাকা বৃক্ষছায়া, তার প্রতিটি অরণ্য পুষ্পের মধ্যে সে প্রাণশক্তি প্রবাহিত। তারা ভেতরে ভেতরে প্রাণের আবেগে স্পন্দমান। আজ যখন ওর যাত্রা হলো শেষ, অলসভাবে বেতের চেয়ারে বসে বারান্দায় ও এই শান্তির মহা ব্যাখ্যার দিকে তাকাল। আশপাশের বিচিত্র আবহাওয়ার ভেতর থেকে, ওর মনে এসে খুব আস্তে লাগল প্রকৃতির চুপি চুপি করে বলা কথাগুলো। ও যেন মগ্ন হয়ে যায়, লীন হয়ে যায় এই স্পন্দিত ধরিত্রীর মধ্যে।
আকাশের দিকে তাঁর দৃষ্টি গেল। নিশীথরাজ সোমদেব তাঁর রৌপ্যরথে চলেছেন উদীচী পর্বতের দিকে মণ্ডলাবৃত হয়ে। টুকরো টুকরো মেঘের আভাস এখানে-ওখানে, তাদের বুকে চাঁদের রশ্মিজালে ইন্দ্রধনুর মতো মোহ তৈরি করে। তির্যক আলো এসে পড়ছে তার উঠোনে। মেহেদি বেড়ার আলো-আঁধারের মধ্যে গোঁড় চাকরেরা বসে খুব সম্ভব দেশের কথাই বলাবলি করছিল মৃদুস্বরে, মাঝে রাখা লন্ঠনটির আলো এসে পড়েছিল তাদের সেই চোয়াল-উঁচু কালো মুখে আর ছোট ছোট চোখগুলোতে, পড়ে চকচক করছিল; ভারি অদ্ভুত দেখাচ্ছিল। স্বদেশের কথা বললে আজও ছেলেটির সেই প্রথম রাতের ছবিটা মনে পড়ে যায়।
প্রশ্ন
১। কত সালে ঋত্বিক ঘটক পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত হন?
২। অদ্বৈত মল্লবর্মণের কোন উপন্যাস অবলম্বনে ঋত্বিক সিনেমা তৈরি করেন?
৩। স্বদেশের কথা বললে ছেলেটির কোন ছবি মনে পড়ে?
কুইজ ৭৭-এর উত্তর
১. দুটি সাহিত্য কর্ম।
২. ১৯৫৭ সালে।
৩. স্থপতি রাতু।
কুইজ ৭৭-এর জয়ী
সাজিয়া আফরিন
আজিমপুর সরকারি কলোনি, ঢাকা
জুলফিকার আহমেদ জুলু
কালীনাথ রায়ের বাজার, ভোলা
নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ১৪ নভেম্বর সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।
ঋত্বিক ঘটকের গল্পসংগ্রহ বইয়ের, 'আকাশগঙ্গার স্র্রোত ধরে' গল্পের কিছু অংশ দেওয়া হলো-
অরণ্যের একটা আত্মা আছে। তবে ঘাসে ঘাসে, পাতায় পাতায়, তার রাত্রির শাখাময় জটাজালে, তার খর মধ্যাহ্নের জ্বালাময় দীপ্তির মধ্যে, তার অজস্র পর্ণ-ঢাকা বৃক্ষছায়া, তার প্রতিটি অরণ্য পুষ্পের মধ্যে সে প্রাণশক্তি প্রবাহিত। তারা ভেতরে ভেতরে প্রাণের আবেগে স্পন্দমান। আজ যখন ওর যাত্রা হলো শেষ, অলসভাবে বেতের চেয়ারে বসে বারান্দায় ও এই শান্তির মহা ব্যাখ্যার দিকে তাকাল। আশপাশের বিচিত্র আবহাওয়ার ভেতর থেকে, ওর মনে এসে খুব আস্তে লাগল প্রকৃতির চুপি চুপি করে বলা কথাগুলো। ও যেন মগ্ন হয়ে যায়, লীন হয়ে যায় এই স্পন্দিত ধরিত্রীর মধ্যে।
আকাশের দিকে তাঁর দৃষ্টি গেল। নিশীথরাজ সোমদেব তাঁর রৌপ্যরথে চলেছেন উদীচী পর্বতের দিকে মণ্ডলাবৃত হয়ে। টুকরো টুকরো মেঘের আভাস এখানে-ওখানে, তাদের বুকে চাঁদের রশ্মিজালে ইন্দ্রধনুর মতো মোহ তৈরি করে। তির্যক আলো এসে পড়ছে তার উঠোনে। মেহেদি বেড়ার আলো-আঁধারের মধ্যে গোঁড় চাকরেরা বসে খুব সম্ভব দেশের কথাই বলাবলি করছিল মৃদুস্বরে, মাঝে রাখা লন্ঠনটির আলো এসে পড়েছিল তাদের সেই চোয়াল-উঁচু কালো মুখে আর ছোট ছোট চোখগুলোতে, পড়ে চকচক করছিল; ভারি অদ্ভুত দেখাচ্ছিল। স্বদেশের কথা বললে আজও ছেলেটির সেই প্রথম রাতের ছবিটা মনে পড়ে যায়।
প্রশ্ন
১। কত সালে ঋত্বিক ঘটক পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত হন?
২। অদ্বৈত মল্লবর্মণের কোন উপন্যাস অবলম্বনে ঋত্বিক সিনেমা তৈরি করেন?
৩। স্বদেশের কথা বললে ছেলেটির কোন ছবি মনে পড়ে?
কুইজ ৭৭-এর উত্তর
১. দুটি সাহিত্য কর্ম।
২. ১৯৫৭ সালে।
৩. স্থপতি রাতু।
কুইজ ৭৭-এর জয়ী
সাজিয়া আফরিন
আজিমপুর সরকারি কলোনি, ঢাকা
জুলফিকার আহমেদ জুলু
কালীনাথ রায়ের বাজার, ভোলা
নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ১৪ নভেম্বর সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।
- বিষয় :
- ঋত্বিক ঘটক
