জীবন বালুচরের মতো তাই একে অনুভব করুন
ডোয়ান 'দ্য রক' জনসন [২ মে ১৯৭২, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র] -ছবি :অনলাইন
ডোয়ান জনসন
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২২ | ০০:০৬
ডোয়ান জনসন। 'দ্য রক' নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি রেসলারের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারের অনুপ্রেরণামূলক অংশ অনুবাদ করেছেন ফাহমিদা রিমা
সবসময় আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। কেননা হলিউডের আগেও রেসলার হিসেবে আমার একটা ক্যারিয়ার ছিল। অনাহারী ছিলাম না আমি। জীবন কাটানোর মতো রসদ মজুত ছিল আমার। ফলে হলিউডে বা অভিনয়ে আমি এসেছি মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে। এই ঝুঁকি নিতে মোটেও ঘাবড়াইনি আমি। কেননা বাঁচার মতো টাকা আমার ছিল। ফলে টাকা কামাতে নয় বরং ক্যারিয়ারের একটি সফল রূপান্তর ঘটাতেই এ পথে আসা।
সত্যি বাস্তবের কোনো মানুষ?
আমার ধারণা, রেসলিং খেলে এক রাতে ৪০ ডলার কামানো আর তিন বেলা ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়া, সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতে স্বস্তাধরের কোনো আস্তানায় রেসলিং খেলা আর নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে কপাল কেটে রক্ত ঝরানো, তারপর মোটা অঙ্কের টাকা কামানো কিংবা কোনো গাড়ির মালিক হয়ে যাওয়া- সেই দিনগুলোতে নিজের কাছে কখনোই জানতে চাইনি, 'আমি এসবের যোগ্য কি-না? আমি সত্যি বাস্তবের কোনো মানুষ?'
নতুন পথের সন্ধান
রেসলিং খুবই বাস্তব ছিল আমার কাছে। প্রফেশনাল রেসলিং কোম্পানি ডব্লিউডব্লিউই বা ওয়ার্ল্ড রেসলিং এন্টারটেইনমেন্ট-এর কাছ থেকে একদিন ফোন পেলাম, 'স্টামফোর্ডে ভিন্স ম্যাকমাহন আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান।' তার সঙ্গে দেখা করতে অফিসে গেলাম। বললেন, 'আমার সত্যি সত্যি মনে হয়, আপনার মধ্যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে; তবে ডব্লিউডব্লিউইর জন্য আপনি এখনও প্রস্তুত নন। আপনি বরং টেনিসিতে চলুন। সেখানেই আপনাকে এই খেলাটার আগাগোড়া শিখিয়ে দিতে চাই আমি।' যখন চলে আসছিলাম, তিনি বললেন, 'খেটে যেতে থাকুন, তবে আশাহত হবেন না কিংবা কখনোই ব্লেড দিয়ে কপাল কাটতে যাবেন না আর। বুঝলেন তো?'
রেসলার হয়ে ওঠার দিনগুলো
১৯৬০, '৭০ ও '৮০ দশকের প্রথম ভাগে প্রশিক্ষকরা মেরে-ধরে হাড়গোড় এক করে দিয়ে শেখাতেন। তারা হয়তো কোনো গোড়ালি ভেঙে দিয়ে আবার আরোগ্য করে তুলতেন। খেলার ধরনটাই এমন ছিল। এভাবেই রেসলিং শেখানো হতো। এ একেবারেই পাগলাটে ব্যাপার। আমার বাবা ডব্লিউডব্লিউই হল-অব-ফেম খেতাবধারী রেসলার রকি জনসন অবশ্য আমার কোনো হাড় ভাঙেননি, বরং মাসের পর মাস ধরে প্রায় প্রতিদিন আমাকে হাড়গোড় এক করার মতো করে মেরেছেন- যেন রেসলার হয়ে উঠতে পারি।
প্রাণের জিনিস রেসলিং
রেসলিং আমার প্রাণের জিনিস। সিনেমার প্রতি এখনও ঠিক ততটা টান অনুভব করিনি আমি; তবে জানি, সিনেমার প্রভাব ব্যাপক। সিনেমায় একটা দীর্ঘ ক্যারিয়ার সুনিশ্চিত করা সম্ভব। রেসলিংয়ে জীবনটা বালুচরের মতো। কিছু কিছু রেসলার সেই বালুচরের দিকে ঠিক খেয়াল রাখেন না। 'দ্য রেসলার' সিনেমায় মিকি রোয়ার্ক অভিনীত চরিত্রটি আসলে আমার বাবার, আমার চাচার, আমার পরিবারের অনেকেরই গল্পের প্রতিরূপ!
আমি কি ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি?
যখন অভিনয়ে এলাম, ভদ্রস্থ সিনেমা বানানোর একটা বড় সুযোগ পেয়ে গেলাম আমি। ২০০৫, ২০০৬, ২০০৭- এই দীর্ঘ বছরগুলোতে শুধু শুনতে পেতাম, 'সিনেমাটির সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, এই লোকটি এখানে অভিনয় করেছে। এর চেয়ে বেশি কিছু নেই তার সিনেমায়!' নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, 'আমি কি ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি? রেসলিংয়ে কি আরও কিছুদিন থাকা দরকার ছিল আমার?' বুঝলাম, নিজেকে নিজের মতো করেই সিনেমার জগতেও প্রতিষ্ঠা করতে হবে আমাকে।
- বিষয় :
- দ্য রক
- ডোয়ান জনসন
- রেসলার
