ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকার

যন্ত্র উৎপাদনে বিদেশি বিনিয়োগ দরকার

যন্ত্র উৎপাদনে বিদেশি বিনিয়োগ দরকার
×

প্রকৌশলী রাজীব হায়দার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আউটপেস স্পিনিং মিলস ও পরিচালক, বিটিএমএ

--

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৫:০৬

সমকাল: বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকারখানায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কি বাড়ছে?

রাজীব হায়দার: প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় কারখানায় নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনে বাংলাদেশ কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। প্রযুক্তির উন্নতি সঙ্গে কারখানাগুলোকেও সেই দিকে মনোযোগ দিতে হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করলে পণ্য উৎপাদনে খরচ ও সময় কম লাগে। অন্যদিকে উৎপাদন বাড়ে। গুণগত মান বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানিও বাড়ে উল্লেখযোগ্য হারে। আধুনিক যন্ত্র পরিচালনা করার জন্য দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী দামে উন্নত প্রযুক্তি আমদানির উৎস খুঁজে বের করাও কিছুটা কঠিন।

সমকাল: কী ধরনের যন্ত্র আমদানি হয়?

রাজীব হায়দার: স্পিনিং, ওভেন, নিটিং, ডায়িং, ফিনিশিং এবং তৈরি পোশাক খাতে আলাদা যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও পোশাক উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এমন প্রায় সব ধরনের যন্ত্রপাতিই আমদানি করতে হয়। উৎপাদনে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখে এমন যন্ত্র, যেমন- জেনারেটর, কম্প্রেসর, বয়লার এ জাতীয় যন্ত্রও আনতে হয়। ইটিপির জন্যও প্রয়োজন হয় বড় ধরনের যন্ত্রের। সবচেয়ে বেশি যন্ত্রপাতি আসে ইউরোপ, তুরস্ক ও চীন থেকে। এ ছাড়া ভারত, জাপান, কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি হচ্ছে।

সমকাল: প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্র দেশে উৎপাদন সম্ভব কিনা? এতে কী পরিমাণ বিনিয়োগ লাগতে পারে?

রাজীব হায়দার: দেশে অল্প পরিসরে কিছু ছোটখাটো যন্ত্র উৎপাদন হয়, যা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। যেমন- ট্রান্সফরমার ও বয়লারসহ কিছু যন্ত্র উৎপাদন হয়। কিন্তু ভারী যন্ত্রগুলো উৎপাদন করতে হাজার হাজার কোটি টাকা মূলধনের প্রয়োজন। তাছাড়া এসব যন্ত্র উৎপাদনে সংশ্নিষ্ট যেসব যন্ত্র প্রয়োজন, যে ধরনের প্রকৌশলী দরকার বাংলাদেশে তার অভাব আছে। ভারী যন্ত্র উৎপাদন করতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। শুধু দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, উৎপাদিত যন্ত্র বিদেশে রপ্তানি হবে এমন পরিকল্পনা করেই বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য শুরুতে বিদেশ থেকে যন্ত্র এনে সেগুলো সংযোজন করা যায়। আধুনিক ও ভারী যন্ত্র উৎপাদনকারী দেশগুলো তাদের মেশিনারিজের রপ্তানি বাড়াতে এখন বিভিন্ন দেশে গিয়ে যৌথ উদ্যোগে যন্ত্র উৎপাদনের কারখানা স্থাপন করছে। যন্ত্রের আমদানিনির্ভরতা কাটাতে বাংলাদেশকে সে দিকে এগোতে হবে। দেশগুলোকে কারখানা স্থাপনের জন্য বাংলাদেশে নিয়ে আসতে হবে। এতে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারের পদক্ষেপ থাকা জরুরি।

সমকাল: এ জন্য সরকার থেকে কী সহায়তা দরকার?

রাজীব হায়দার: সরকারের পুরোপুরি সমর্থন ও উদ্যোগ ছাড়া এটি মোটেও সম্ভব নয়। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেশে আনতে হবে। তাদের জন্য বিনিয়োগ পরিস্থিতি সহজ করতে হবে। পাশাপাশি দেশি উদ্যোক্তাদের জন্য নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা থাকা জরুরি। ভারী ও আধুনিক যন্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালে শুল্ক্ক সুবিধা দিয়ে উৎপাদনে উৎসাহ দিতে হবে।

সমকাল: কারখানাগুলোতে এখন রোবোটও ব্যবহার হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্র সংযোজনের কারণে কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ছে কিনা?

রাজীব হায়দার: পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে বলা যাবে না। তবে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় মানেই হচ্ছে শ্রমিকের বিকল্প। যেসব কারখানায় স্বয়ংক্রিয় মেশিন স্থাপন করা হয়, সেসব কারখানায় শ্রমিক চাহিদা কমবে, এটাই স্বাভাবিক। এখানে মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে বিশ্বের দ্বিতীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও এখনও চীনের তুলনায় বহুগুণ পিছিয়ে রয়েছে। রপ্তানিবাজারে নিজেদের অবস্থা বাড়ানোর বিশাল সুযোগ আছে। পণ্যে বৈচিত্র্য এবং ক্রেতাদের চাহিদামতো উৎপাদন করতে পারলে সে সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আরও বহু শিল্পকারখানা স্থাপন করতে হবে। তখন শ্রমিক চাহিদা বাড়বে। এসব দিক বিবেচনা করলে কর্মসংস্থান খুব একটা কমবে না। তাছাড়া কারখানায় অটোমেশন প্রযুক্তি পরিচালনা করার জন্যও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন। কিন্তু দেশে দক্ষ শ্রমিক ও কারিগরের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার এবং উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

সমকাল: কারখানায় আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের জন্য ক্রেতাদের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন? এসব যন্ত্রের সংযোজনের ফলে পোশাকের বাড়তি দর পাওয়া যায় কিনা?

রাজীব হায়দার: ক্রেতারা পণ্যের মানের ওপর জোর দিলে তখন উদ্যোক্তাদের আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার করতে হয়। অনেক সময় ক্রেতারাই পছন্দমতো পণ্য উৎপাদনের জন্য নতুন প্রযুক্তির নাম বলে দেন। তখন উদ্যোক্তাদের সেসব যন্ত্র আমদানি করতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যন্ত্র আমদানি করতে হয় ক্রেতা দেশগুলো থেকে। তাদের তৈরি যন্ত্র দিয়ে পণ্য উৎপাদন করে সেই পণ্য তাদের কাছে রপ্তানি করেন উদ্যোক্তারা। তবে এজন্য পোশাকের কোনো বাড়তি দর পাওয়া যায় না। সুবিধা হলো- যে কারখানায় ভালো প্রযুক্তির মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন হয়, ক্রেতারা সেই কারখানা থেকে পণ্য কিনতে আগ্রহ দেখান বেশি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জসিম উদ্দিন বাদল

আরও পড়ুন

×