আত্মরক্ষায় কারাতে
কারাতে শেখায় আগ্রহী হয়ে উঠছে কিশোরীরা
ঐশ্বর্য কিবরিয়া
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৩ | ১৮:০০
‘কারাতে’ শব্দের অর্থ হলো ‘খালি হাতে’। অর্থাৎ শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে খালি হাতে আত্মরক্ষার কৌশলই হলো কারাতে। কারাতে মানে আক্রমণ করা নয়, বরং নিজেকে বাঁচানো। আত্মরক্ষার এ কৌশলের উৎপত্তি জাপানে। তবে এখন বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয় একটি খেলা। ২০১৯ সালের এসএ গেমসে কারাতের মাধ্যমে একই দিনে তিন স্বর্ণপদক আসার পর থেকে এ খেলার প্রতি আগ্রহীর কমতি নেই। তবে খেলাকে ছাপিয়ে গেছে আত্মরক্ষার বিষয়টি। এ ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি এগিয়ে আসছেন।
বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে প্রথম নারীরা কারাতে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। শুরুর দিকে নারীদের কারাতে শেখার ব্যাপারে বেশ বাধা-বিপত্তি পেরোতে হয়েছে। তবে বর্তমানে তাঁদের আত্মরক্ষার জন্য অভিভাবকরা এগিয়ে আসছেন কারাতে শেখানোর ব্যাপারে। কথা হয় ২০১৯ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণ পদকজয়ী কারাতেকা মারজান প্রিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, ‘যাঁরা তাঁদের সন্তানদের কারাতে শেখাতে ইচ্ছুক, তাঁরা আসলে যথেষ্ট সচেতন। মা-বাবা সব সময় তাঁদের সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, বিশেষত মেয়েদের ব্যাপারে। এ ক্ষেত্রে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার উত্তম উপায় হলো আত্মরক্ষা, যা কারাতে থেকে শেখা অনেক সহজ।’ ২০১৯ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী আরেক কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা বলেন, ‘২০১৩ সালে আমি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে প্রথম কারাতে প্রশিক্ষণ শুরু করি। তখন হাতেগোনা কয়েকজন মেয়ে কারাতে শিখত, তাও তারা নিয়মিত ছিল না। এখন অনেক অভিভাবকই মেয়েদের কারাতে শেখানোর ব্যাপারে ইচ্ছা পোষণ করেন।’
নবীন কারাতেকা রায়সা জেসিন কিবরিয়া জানান, ‘বড় আপুকে দেখে আমার কারাতের প্রতি আগ্রহ জন্মে। আর আমিও কারাতে শিখতে শুরু করি।’ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের ছাত্রী মাইমুনা সাজ্জাদ বৃষ্টি জানান, ‘পরিবারের সহযোগিতার কারণেই লেখাপড়ার পাশাপাশি কারাতে অনুশীলন করা আমার জন্য সহজ হয়েছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থী রয়েছে; যাদের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা দুর্বল। তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় কারাতে। রুবিনা শিরিন তাঁর মেয়েদের সুলতানা কামাল ক্রীড়া কমপ্লেক্সে কারাতে শেখাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘আমার ছোটবেলা থেকেই মার্শাল আর্টের প্রতি আগ্রহ ছিল; কিন্তু মফস্বল শহরে তখন কারাতে শেখার কোনো ব্যবস্থা ছিল না বলে আমার শেখা হয়নি। এখন মেয়েদের সে সুযোগ আছে। বর্তমানে আমার দুই মেয়েই কারাতে শিখছে। কারাতে যেমন আমার মেয়েদের আত্মরক্ষার জন্য জরুরি, তেমনি তাদের আত্মবিশ্বাসী হতেও সহযোগিতা করেছে।’
অনেকে মনে করেন, কারাতে মানেই মারামারি। কিন্তু এটি ভুল ধারণা মাত্র। এটি একটি আর্ট। যা চর্চা করলে শরীর ঠিক থাকে। আমাদের যেখানে প্রতিদিন ব্যায়াম করার প্রয়োজন, সেখানে আমরা কারাতে শিখলেও পারি। কারাতে চর্চা করলে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে। মন ভালো থাকে। শারীরিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়। অতিরিক্ত মেদ থাকলে কেটে যায়। হতাশা বা নেতিবাচক অনুভূতিও তৈরি হয় না। ফলে মাদক থেকে দূরে রাখতেও সাহায্য করে কারাতে।
- বিষয় :
- আত্মরক্ষা
- কারাতে
- এসএ গেমস
- মারজান প্রিয়া
