বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি কৌশল
পরিকল্পনামতো গুছিয়ে পড়তে পারলেই পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব- ছবি : ফয়সাল সিদ্দিক কাব্য
এম. এ. মান্নান, ৩৬তম বিসিএস (কৃষি) ক্যাডার
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৩ | ০৩:১৯
সম্প্রতি প্রকাশিত হলো ৪৫তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল। এ পরীক্ষায় ৩টি ধাপ। প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইভা। এই ৩টি ধাপের মধ্যে আসল প্রতিযোগিতা মূলত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়। কত নম্বর পেলে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় টিকবেন সেটি নির্ধারণ করা নেই। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কত নম্বর পেলেন সেটি আসল বিষয় নয়, আসল বিষয় হলো আপনি কতজনকে পেছনে ফেলে সামনে এলেন। এ জন্য বললাম, আসল প্রতিযোগিতা মূলত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়। লিখিত পরীক্ষায় নিয়ম আছে ৫০ শতাংশ নম্বর পেলেই পাস। ৫০ শতাংশ নম্বর হলো গড় নম্বর। মানে ৯০০-এর মধ্যে আপনি ৪৫০ পেলেই পাস। কোনো একটি বিষয়ে আপনি ১০০তে ৪০ পেয়েছেন। মানে ৫০ শতাংশের চেয়ে ১০ নম্বর কম পেয়েছেন। আবার কোনো একটি বিষয়ে আপনি ১০০তে ৬০ নম্বর পেয়েছেন। মানে ৫০ শতাংশের চেয়ে ১০ নম্বর বেশি পেয়েছেন। এখন এ দুই বিষয়ের নম্বর যোগ করে আপনি ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন; সুতরাং আপনি পাস। তবে কোনো বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০-এর কম নম্বর পেলে সে বিষয়ে কোনো নম্বর পাননি বলে গণ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ কোনো একটি বিষয়ে আপনি ১০০তে ২৯ নম্বর পেয়েছেন, তাহলে আপনার এই ২৯ নম্বর যোগ হবে না। তবে এই ২৯ নম্বর বাদ দিয়েও যদি আপনি অন্য বিষয়গুলোর নম্বর যোগ করে ৯০০তে মোট ৪৫০ পান, তবুও আপনি পাস করবেন। এভাবে ভাইভাতেও ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে পাস।
বিসিএস লিখিত এবং ভাইভার নম্বর যোগ করে ফাইনাল রেজাল্ট তৈরি হয়। আপনি ক্যাডার হবেন নাকি নন-ক্যাডার জব পাবেন, নাকি আপনার পছন্দের প্রথম ক্যাডারটিই পাবেন– সেটি লিখিত পরীক্ষার নম্বরের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে। তাই লিখিত পরীক্ষায় আপনার প্রস্তুতি হতে হবে সিলেবাস ও সাজেশনভিত্তিক এবং গোছানো।
(১) ব্যাকরণ থেকে ৫টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর ৬ (৬×৫ =৩০ নম্বর)। ব্যাকরণ থেকে যেসব বিষয়ের ওপর প্রশ্ন হবে তা হলো (ক) শব্দগঠন, (খ) বানানের শুদ্ধরূপ/বানানের নিয়ম, (গ) বাক্যশুদ্ধি/বাক্যের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, (ঘ) প্রবাদ-প্রবচনের নিহিতার্থ প্রকাশ, (ঙ) বাক্য গঠন।
বিগত বছরের প্রশ্ন অ্যানালাইসিস করে ব্যাকরণ অংশের জন্য একটি পরিপূর্ণ সাজেশন দেওয়া হলো:
শব্দ গঠন থেকে যা পড়বেন–
(ক) শব্দ কী? বাংলা ভাষায় শব্দ গঠনের ৫টি প্রক্রিয়া উদাহরণসহ লিখুন, (খ) অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দগুলোকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? উদাহরণসহ আলোচনা করুন, (গ) উপসর্গযোগে শব্দ গঠন করুন।
বানান থেকে যা পড়বেন– (ক) বানানের শুদ্ধরূপ, (খ) বাংলা বানানে শ, স, ষ ব্যবহারের নিয়ম।
(গ) বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে তৎসম শব্দের বানানের সূত্রগুলো লিখুন।
(ঘ) বাংলা একাডেমি প্রণীত প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুসারে অ-তৎসম শব্দের বানানের সূত্রগুলো লিখুন।
বাক্য থেকে যা পড়বেন– (ক) বাক্য কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা লিখুন, (খ) কোন কোন বৈশিষ্ট্যের ওপর বাক্যের সার্থকতা নির্ভর করে লিখুন?
(গ) বাক্য শুদ্ধ করে লিখুন।
(ঘ) বাক্যে রূপান্তর করুন (সরল থেকে জটিল, জটিল থেকে সরল এমন)।
প্রবাদ প্রবচন থেকে যা পড়বেন–
(ক) প্রবাদ প্রবচন ব্যবহার করে অর্থপূর্ণ বাক্য গঠন করুন।
(খ) বাগধারার অর্থ উল্লেখ করে বাক্যে প্রয়োগ দেখান।
(৪) সাহিত্য অংশ থেকে ১০টি প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর ৩ (১০×৩ = ৩০ নম্বর) সাহিত্য অংশ থেকে সাধারণত কয়েকটি টপিকস থেকে প্রতি বছর প্রশ্ন থাকে। চর্যাপদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ইত্যাদি।
সাহিত্য অংশ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন :
- চর্যাপদ কে, কবে, কোথায় আবিষ্কার করেন?
- চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে লিখুন।
-বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের গুরুত্ব আলোচনা করুন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পরিচয় ও বিষয়বস্তু লিখুন।
-মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলার চরিত্রটির বৈশিষ্ট্য লিখুন।
[বাকি অংশ পরবর্তী সংখ্যায়]
- বিষয় :
- বিসিএস
- লিখিত পরীক্ষা
- প্রস্তুতি
