ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শিল্প

পাটের ব্যাগে নন্দন

পাটের ব্যাগে নন্দন
×

--

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের সুনাম দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছেছে বেশ আগেই। সোনালি আঁশকে ঘিরে অনেক উদ্যোক্তা নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। কেউ কেউ নান্দনিকতার ছোঁয়ায় ভিন্নমাত্রা আনছেন পাটের ব্যাগে। এ নিয়ে লিখেছেন– অরণ্য সৌরভ

ফ্যাশন নদীর মতোই প্রবহমান। মাঝেমধ্যে এতে বাঁক এলেও, কয়েক বছর পরপর ঘুরে ঘুরে একই ফ্যাশন ফিরে আসে। সঙ্গে যোগ হয় নতুন ঢং। পোশাকের সঙ্গে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যাগের জুড়ি নেই। পাট দিয়ে অনেকে তৈরি করছেন সেসব ব্যাগ। কেউ কেউ ব্যাগে করছেন হ্যান্ডপেইন্ট। মনের মতো সাজিয়ে নিচ্ছেন পছন্দের পণ্যটি। ক্লাস, ভ্রমণ থেকে শুরু করে নিয়মিত ব্যবহার করা যায় পাটের ব্যাগ। পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও নেওয়া যায় অনায়াসে।

দেশি পাটের ব্যাগের ব্যবহার বৃদ্ধি, চাহিদা পূরণ এবং আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পাটপণ্যের ব্যাগ নিয়ে কাজ করছেন গ্রামীণ জুটের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ফ্যাশনে পাটপণ্যের ব্যাগ খুবই মানানসই ও স্বতন্ত্র। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও ফ্যাশন হিসেবে পাটের ব্যাগের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।’

ব্যাগ নিয়ে কাজ করা এথনিক এলিগেন্স বাংলার স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সাদিয়া রহমান বলেন, ‘ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে পাটের ব্যাগ এখন ট্রেন্ডি। শাড়ি হোক বা ওয়েস্টার্ন পোশাক, পাটের ব্যাগ মানিয়ে যায় সব ধরনের আউটফিটের সঙ্গেই। পরিবেশবান্ধব ফ্যাশন এখন পুরো বিশ্বেই জনপ্রিয়। আনন্দের বিষয়, বাংলাদেশি তরুণরাও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন।’

একসময় মেয়েরা খুব সাধারণ ব্যাগ ব্যবহার করলেও এখন ব্যাগের ডিজাইন ও স্টাইলে এসেছে নানা রকম ভিন্নতা। আকর্ষণীয় ডিজাইনের ছোট-বড় বা মাঝারি আকারের সব ধরনের ব্যাগ সময় ও উপলক্ষ অনুযায়ী ব্যবহার করছেন ফ্যাশন সচেতনরা।

নকশা ও রঙের বৈচিত্র্য
নকশার বৈচিত্র্যের জন্য তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে পাটের তৈরি ব্যাগ। ব্যাগে নকশা হিসেবে সুঁই-সুতার কাজ, হ্যান্ডপেইন্ট, কুশিকাঁটার কাজ, কার্টওয়ার্কের কাজ করে থাকেন ডিজাইনাররা। পাশাপাশি অলংকরণের জন্য ব্যবহার করা হয় সুতার ট্যাসেল, লেইস, কাঠের বিডস ইত্যাদি। ডিজাইনার আশিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যাগে ডিজাইন হিসেবে রিবন দিয়ে নকশা, সুতা দিয়ে নকশা, হ্যান্ডক্রাফট, হ্যান্ডপেইন্ট ও কারচুপি করে থাকি।’

একসময় ব্যাগের রং বলতে শুধু কালোকেই ধরা হতো। তবে এখনকার ফ্যাশনেবল মেয়েদের পছন্দ রঙের বৈচিত্র্য। রঙের প্রতি ভালোবাসা একদিকে যেমন ফ্যাশন শিল্পকে প্রভাবিত করছে, তেমনি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিও নতুন কালার পাল্টে দিচ্ছে। ব্যাগের রং অনেক রকম হয়ে থাকে, যেমন– সাদা, কালো, লাল, হলুদ, সবুজ, নীল, আকাশি, গোলাপি, হালকা গোলাপি, বিস্কুট, ডেনিম জিন্স, ব্ল্যাক জিন্স, স্কাই জিন্স, বেগুনি, টিয়া, পেস্ট, ইট, নেভিব্লু, লেভেন্ডার, মিষ্টি চেক টাইপ ইত্যাদি।

ডিজাইনার সাদিয়া রহমান বলেন, ‘অনেকের ধারণা, পাটের ব্যাগ মানেই ফিকে সোনালি বা খাকি রঙের ব্যাগ। এখন পাটের ব্যাগ বাহারি রঙের। ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো রঙে পাটের কাপড়কে ডাইং করে বিভিন্ন রঙে রঙিন ব্যাগ বানানো যায়।’

পাটের বাহারি ব্যাগ
পাটের অধিকাংশ ব্যাগ নারী-পুরুষ উভয়ই ব্যবহার করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে। আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার ব্যাগের ধরনের মধ্যে অধিকাংশই লেডিস ব্যাগ। স্কুল, অফিস, পার্টিসহ যে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ও মানানসই ব্যাগগুলো তৈরি করে থাকি।’

সাদিয়া রহমান বলেন, ‘পাট থেকে মোটামুটি সব ধরনের ব্যাগই এখন তৈরি করা হয়। ট্রাভেল ব্যাগ থেকে শুরু করে মোবাইল পার্স, বোহো থিমের ব্যাগ, রাউন্ড ব্যাগ, ছেলে এবং মেয়েদের কবি ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, সাইডব্যাগ সবচেয়ে বেশি তৈরি হচ্ছে।’

ব্যবহৃত উপকরণ
জুট কটন এবং জুট লেমিনেশন কাপড় ব্যাগের মূল উপকরণ। জুট কটন, জুট ফেব্রিক, জুট হ্যান্ডলুম ইত্যাদি উপকরণও ব্যবহার করা হয়। ব্যাগের ভেতরের দিকে সুতি কাপড় ব্যবহার করা হয়। কোনো কোনো ব্যাগের অভ্যন্তরে ওয়াটারপ্রুফ কাপড় দেওয়া হয়। উন্নতমানের জিপার, মেটালের বকলেস এবং হুক ব্যবহার করা হয় ব্যাগগুলো টেকসই করার জন্য।

দরদাম
এ ধরনের ব্যাগের দাম সাইজ এবং ডিজাইন অনুযায়ী ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাটের ব্যাগ কেনা যাবে।

আরও পড়ুন

×