ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

‘তিকিতাকা’য় আটকাবে আর্জেন্টিনা?

‘তিকিতাকা’য় আটকাবে আর্জেন্টিনা?
×

নাজমুল হক নোবেল

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১২:২৪

ফুটবলের সবচেয়ে দুর্ভাগা দেশগুলোর তালিকা করলে স্পেন ওপরের দিকেই থাকবে। পৃথিবীর অন্যতম সেরা লিগ, সেরা সেরা সব ক্লাব, আলাদা ফুটবল দর্শন, অসংখ্য দুর্দান্ত প্রতিভা, সমৃদ্ধ ফুটবল সংস্কৃতি থাকার পরও স্প্যানিশদের ঝুলিতে মাত্র একটি বিশ্বকাপ। তবে সেই ভাগ্য বদলের মোক্ষম একটা সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে তারা। এজন্য আজকের ফাইনালে অদম্য আর্জেন্টিনাকে হারাতে হবে। দুরন্ত ছন্দে থাকা মেসি-আলভারেজদের কি আটকাতে পারবে স্প্যানিশরা?

স্পেনের প্রথম শিরোপা ১৯৬৪ সালে ইউরো জয়। পরের ৪২ বছরে তাদের অর্জন শুধু একটি বড় টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল। তবে গত ১৮ বছরে একটি বিশ্বকাপসহ চারটি মেজর ট্রফি জিতেছে তারা। আজ বিশ্বকাপ জিততে পারলে সংখ্যাটা বেড়ে ৫ হবে। উয়েফা নেশনস লিগ হিসাবে ধরলে এ সময় তারা আরও ৩টি ফাইনাল খেলেছে। এই গত দেড় যুগে স্পেনের এই সফলতার কারণ কী? এককথায় জবাব, ‘তিকিতাকা’। ভিসেন্ত দেল বক্সের কোচিংয়ে জাভি-ইনিয়েস্তা-পুয়েলরা মাঠে এ কৌশলের দারুণ প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন। তিকিতাকার জাদুতে ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে ২০১০ বিশ্বকাপ জিতে নেয় তারা। এই দলটি তাদের আগমনী বার্তা দিয়েছিল ২০০৮ ইউরো জিতে। ২০১২ ইউরো জিতে তারা বৃত্ত পূরণ করে। জাভি-ইনিয়েস্তা অবসর নেওয়ার পর একটা শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। তখন তিকিতাকার পাসিং ফুটবল মুগ্ধ করার বদলে বিরক্তিকর হয়ে উঠেছিল। তবে লুইস দে লা ফুয়েন্তে স্পেনের দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার জেগে উঠেছে তিকিতাকা। তাঁর অধীনে লামিনে ইয়ামাল-নিকো উইলিয়ামসরা ২০২৪ সালে ইউরো জিতে নেন। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে তারা।

ফুয়েন্তে কিন্তু তিকিতাকায় কিঞ্চিৎ সংযোগ ঘটিয়েছেন। বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে ছোট ছোট পাসে খেলা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনে লম্বা পাসের কার্যকরী আক্রমণও করে এই স্পেন। ফুয়েন্তের দলের আরও একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো আসরের অন্যতম দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ গড়ে তুলেছে তারা। অভিজ্ঞ আইমারিক লাপোর্তে ও তরুণ পাউ কুবারসির সমন্বয়ে দারুণ এক ডিফেন্স লাইন গড়ে তুলেছে। তাদের সঙ্গে থাকা দুই উইং ব্যাট মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো কেবল প্রতিপক্ষের আক্রমণই ঠেকান না, দুরন্ত গতিতে আক্রমণে ওঠে প্রতিপক্ষের বক্সে ক্রস ফেলতেও দারুণ দক্ষ। পোরো তো গুরুত্বপূর্ণ দুটি গোলও করেছেন। সেমিফাইনালে হটফেভারিট ফ্রান্সের বিপক্ষে একটু ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তারা। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আক্রমণভাগের তিন ফরাসি সেনা কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলেকে খেলার জায়গায়ই দেননি। চার ডিফেন্ডারের সঙ্গে মিডফিল্ডার রদ্রি, ফ্যাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো মিলে ফাঁকা জায়গা দেননি ফরাসিদের।

আর্জেন্টিনাকেও কী এই কৌশলে আটকানো সম্ভব? এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে আর্জেন্টিনার অদম্য মানসিকতা। এবার নকআউটের প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে লাতিন দলটি। তাদের হাল না ছাড়ার মানসিকতার জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। তাদের আছে আবার লিওনেল মেসির মতো জাদুকর, যিনি কিনা এক মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিতে পারেন! এমবাপ্পে, দেম্বেলেকে যেভাবে ঠেকিয়ে ছিল স্পেন, মেসি-আলভারেজদের বিপক্ষেও একই কৌশল অবলম্বন করতে পারে তারা। বলের দখল নিয়ে পাসিং ফুটবল খেলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিজেদের পোস্ট থেকে দূরে রাখাই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।

স্পেনের আরেকটি ইতিবাচক বিষয় হলো তাদের খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা। স্পেনের স্কোয়াডের ২৬ জনই ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের বড় ক্লাবে খেলেন। এর মধ্যে পজেশনভিত্তিক ছোট ছোট পাসে প্রেসিং ফুটবলের জন্য বিখ্যাত বার্সেলোনা থেকে এসেছেন সর্বোচ্চ আটজন। এই আটজনের জন্যই কৌশল নিয়ে নতুন করে খুব বেশি কাজ করতে হচ্ছে না কোচকে। মাঝমাঠের নেতৃত্ব দেন এই পাসিং ফুটবলের আরেক কারিগর পেপ গার্দিওলার শিষ্য পেদ্রো। ম্যানচেস্টার সিটির এ মিডফিল্ডার ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে ১৩টি শিরোপা জিতেছেন, সে সঙ্গে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। স্পেনের আরেকটি শক্তির জায়গা হলো তাদের উইং। দুই উইংয়ে তাদের কম্বিনেশনটা দারুণ। দুই উইং-ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরোর সামনে রয়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনা। আর্জেন্টিনার জন্য উইং থেকে আসা আক্রমণগুলো ঠেকানোই বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

আরও পড়ুন

×