ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল: লড়াইয়ের ভেতরে লড়াই

আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল: লড়াইয়ের ভেতরে লড়াই
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১২:৫৭

নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ রোববার আর্জেন্টিনা-স্পেন ব্লকবাস্টার ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামতে যাচ্ছে ৪০ দিনের ফুটবল উৎসবের। ফুটবলের দুটি ভিন্ন ঘরানা মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এ ফাইনালে। আর্জেন্টিনার অদম্য মানসিকতার ফুটবলের সঙ্গে স্পেনের ‘তিকিতাকা’র লড়াইয়ের অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। লিওনেল মেসির জাদুতে আবার শিরোপা উঠবে আর্জেন্টিনার ঘরে, নাকি লামিনে ইয়ামালের প্রতিভার ঝলকে ট্রফি যাবে স্পেনের হাতে? এই বিষয়টি কয়েকটি ব্যক্তিগত লড়াইয়ের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করবে। ফিফাডটকম থেকে এই দ্বৈরথগুলো সমকাল পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো।

  • আইমেরিক লাপোর্তে বনাম লিওনেল মেসি

৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতায় একটুও ভাটা পড়েনি। ৮ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। শুধু তাই নয়, ২১ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন তিনি। ৪ অ্যাসিস্টও করেছেন তিনি, যার দুটি ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে। তাঁর ওই দুই অ্যাসিস্টে শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। স্পেন যদি মেসির এই প্রভাব কমাতে পারে, তবেই দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলতে পারবে। এই কঠিন কাজটা যারা করার চেষ্টা করবেন, তাদের একজন হলেন স্পেনের সেন্টার-ব্যাক আইমেরিক লাপোর্তে। ফরাসি বংশোদ্ভূত অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এই ডিফেন্ডার দুর্দান্ত ফর্মেও আছেন। ১৯ বছরের তরুণ পাউ কুবারসিকে নিয়ে দুর্ভেদ্য এক দেয়াল বানিয়ে তুলেছেন স্পেনের রক্ষণভাগকে। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হয়েছে তাদের বিপক্ষে। লাপোর্তের দৃঢ়তা ও পজিশনিং ছিল এর পেছনে বড় কারণ। আজ লাপোর্তের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে স্পেনের শিরোপাভাগ্য।

  • রদ্রি বনাম এনজো ফার্নান্দেজ

মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করবে এই দুই তারকা মিডফিল্ডারের ওপর। তাই ফাইনালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হয়ে উঠতে পারে এটি। এবারের বিশ্বকাপে নিজের সেরা ফর্মে আছেন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি। এখন পর্যন্ত তাঁর সফল পাস ৬৪৮টি, যা এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ। তাঁর ৯৩ শতাংশ পাস ছিল নিখুঁত। বল দখলে রাখা, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করায় দারুণ দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্পেনের পাসিং ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করা খেলোয়াড়টিও রদ্রি। এবারের আসরে সর্বোচ্চ ৮৩ হাজার ৮০২ মিটার দৌড়েছেন তিনি। রোববারের ফাইনালে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাইবেন রদ্রি।

তবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় রদ্রিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। মূল চ্যালেঞ্জটা আসবে এনজো ফার্নান্দেজের কাছ থেকে। কাতার বিশ্বকাপের সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার পাওয়া এনজো এবারও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। ২৫ বছর বয়সী এ মিডফিল্ডার বিরামহীনভাবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখায় পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত তিনি ৪৩ বার প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়েছেন, যা আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করে জয়ও এনে দিচ্ছেন তিনি। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে তাঁর হেড থেকেই জয়সূচক গোলটি পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমতা ফেরানোর তাঁর দূরপাল্লা শটের গোলটি তো আসরের অন্যতম সেরা।

  • লামিনে ইয়ামাল বনাম নিকোলাস তাগলিয়াফিকো

স্পেনের এই দলটির সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়টি হলেন লামিনে ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে ফর্মে ফিরছেন ১৯ বছরের এ উইঙ্গার। এখনও পুরোপুরি ফর্মে ফিরতে পারেননি তিনি। তারপরও প্রতিপক্ষের প্রধান হুমকি ইয়ামাল। ফ্রান্সের বিপক্ষে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত দৌড় থেকেই স্পেন আদায় করে নিয়েছিল প্রথম গোলের পেনাল্টিটি। আজকের ফাইনালেও তরুণ এ রাইট-উইঙ্গারের ওপরই নির্ভর করবে স্পেনের আক্রমণভাগ। ইয়ামালকে থামানোর গুরু দায়িত্বটা আজ আর্জেন্টিনার লেফট-ব্যাক নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর কাঁধে। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী এ ডিফেন্ডার এবারও আর্জেন্টিনার পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে ৩৩ বছর বয়সী তারকার অভিজ্ঞতার ঝুলি বেশ সমৃদ্ধ হলেও কিছুটা মন্থর হয়ে গেছেন এখন। এজন্যই ইয়ামালের বিপক্ষে আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে তাঁকে।

আরও পড়ুন

×