জাদুর চশমা
লিখেছেন মেহেরুন নেছা মিষ্টি
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ছৌট্ট বাবলু খুব চঞ্চল। সবসময় নতুন কিছু শেখার খোঁজে থাকে। সবকিছুতে তার কৌতূহল। এক বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে সে পার্কের পাশে ঘুরতে গেলো। হঠাৎ চোখে পড়লো ছোট্ট একটি দোকান। দোকানের জানালায় ঝলমল করছে রঙিন চশমা। বাবলু এগিয়ে গেলো। দোকানদার হাসিমুখে বললো, হ্যালো, ছোট্ট বন্ধু! এই চশমা জাদুর চশমা। যে কেউ এটা পরে পার্কে বা ঘরে যে কোনো জায়গায় সুন্দর, আনন্দময় জগৎ দেখতে পাবে। কিন্তু মনে রেখো, এটি শুধুই ভালো কাজে ব্যবহার করতে হবে।
বাবলু অবাক হয়ে চশমা পরে নিল। হঠাৎ, সবকিছু বদলে গেলো। গাছগুলো যেন নাচছে, পাখিরা আরও রঙিন হয়ে গান গাইছে, আর মাটির নিচে লুকানো ছোট রঙিন পাথরগুলো আলো ফোটাচ্ছে। বাবলুর চোখ বড় হয়ে গেলো। ওয়াও, এতো সুন্দর! বাবলু ভাবলো। সে চশমা নিয়ে পার্কে বন্ধুদের কাছে গেলো। বন্ধুরা প্রথমে অবাক, তারপর চশমা পরে সবাই একেবারে জাদুকরী দুনিয়ায় ঢুকে পড়লো।
তারা খেললো, হেসে খুশি হলো, আর পার্কের গাছগাছালি পরিচর্যা করলো। বাবলু বুঝলো, শুধু চশমা নয়, ভালো কাজে ব্যবহার করলেই সত্যিকারের আনন্দ আসে। সে ছোট ছোট কাজ করলো–পাহাড়ি ঢিবি থেকে কাগজের আবর্জনা তুললো, পাখিদের খাবার দিল, বন্ধুর সঙ্গে গল্প করলো, যাতে সবাই খুশি থাকে। দোকানের মালিক আবার এসে বললো, দেখলে, সত্যিকারের জাদু শুধু মজায় নয়। অন্যকে সাহায্য করলেই আনন্দ দ্বিগুণ হয়।
বাবলু চশমা খুলে ব্যাগে রাখলো। কারণ সে বুঝেছে, চশমা না থাকলেও ভালো চোখে সবকিছু দেখলে, জীবন নিজেই এক জাদুকরী জগৎ। দিনের শেষে বাবলু আর তার বন্ধুরা বুঝতে পারলো, আজকের দিনটা সত্যিই এক জাদুকরী দিন। তারা সবাই এখন আরও ভালো বন্ধু, আর পার্কও আরও সুন্দর ঝকঝকে হয়ে গেলো। বাবলু ভাবলো, কাল থেকে আমি আরও ভালো কাজ করবো। আর অন্যদেরও খুশি করার চেষ্টা করবো। এভাবেই, জাদুর চশমা বাবলুকে শিখিয়ে দিল, সত্যিকারের জাদু হলো ভালো চোখে জীবন দেখা এবং ভালো কাজ করা। v
- বিষয় :
- চশমা
