গল্প
বাঘ ও বুড়োর বুদ্ধি
ছবি এঁকেছেন তন্ময় শেখ
লিখেছেন রাফসা সরকার
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৭:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
একদিন এক বুড়ো হাট থেকে বাড়ি ফিরছিল। সেদিন হাট থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় তার সঙ্গী জোটেনি। সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বনে হিংস্র পশুরা এক্ষুণি শিকার করতে বেরোবে যেন! তাই গা ছমছম করছে। আবার যদি ভূত-পেতনিরা ঘার মটকে দেয়! বুড়ো তাড়াতাড়ি যেতে লাগলো। কিন্তু বুড়োটার কপাল সত্যি মন্দ ছিল। যেতে যেতে সামনে পড়লো এক বিরাট বাঘ। জলজ্যান্ত এমন খাবার দেখে বাঘ বাবাজি তো বেজায় খুশি। সে বললো, ‘অ্যাই বুড়ো এবার আমি তোকে খাবো।’
বুড়ো বললো, ‘বাঘ মামা, বাঘ মামা, আমাকে খেও না, তাহলে তো আমি ঘটকের কাজ করতে পারবো না।’
বাঘ বললো, ‘ঘটকের কাজ! সেটা আবার কী?’
‘এটা তো আর পাঁচ মামুলি কাজ না!’ বুড়ো বললো। আরও বললো, ‘আমি ম্যাজিক করে একজন থেকে দুজন করে দিতে পারি।’
বাঘ বললো, ‘তাহলে আমাকে করে দাও।’
বুড়ো বললো, ‘দুজন হবে? বেশ করে দিচ্ছি। তবে এ থলের ভেতর ঢোকো।’
যেই না বাঘ থলের ভেতর ঢুকলো বুড়ো থলের মুখটা বেঁধে দিল। তারপর লাঠি দিয়ে দমাদম মাইর! বাঘ চিৎকার করতে লাগলো।
বুড়ো বললো, ‘এতো সহজে কী দুজন হবে! কষ্ট সহ্য করতে হবে।’
এবার থলেটা পানিতে ফেলে দিল। বাঘের তো প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এক বাঘিনী সে থলেটা দাঁত দিয়ে কামড়ে ওঠালো। দেখে সে আধমরা বাঘটা। সামনে বাঘিনীকে দেখে বাঘ তো বেজায় খুশি। সে ভাবলো ঘটক ঠিকই বলেছে, যখন থলেতে ছিলাম একা আর বেরুতেই হয়ে গেলাম দোকা। এ তো ম্যাজিক। দুজন দুজনকে পেয়ে খুব খুশি। এ ঘটনার পর বুড়ো কোনোদিন আর দেরি করেনি!
n বয়স : ৩+৩+৩+৩ বছর; সপ্তম শ্রেণি, কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
- বিষয় :
- গল্প
