ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

রোগীর শয্যায় শুয়ে কর্মচারীকে ফোন ঘাটতে দেখলেন মন্ত্রী

রোগীর শয্যায় শুয়ে কর্মচারীকে ফোন ঘাটতে দেখলেন মন্ত্রী
×

গতকাল শুক্রবার ময়মনসিংহের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সমকাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। নেমপ্লেটে বেআইনিভাবে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার থেকে শুরু করে দায়িত্ব অবহেলার চিত্র দেখে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করেন তিনি।

পূর্বনির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর পর মন্ত্রী নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি শিশু সদন (বালক) পরিদর্শন করেন। পরে আকুয়া এলাকায় সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।
এই সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এতিম, অসহায় ও পথশিশুদের সুরক্ষা এবং মানবিক উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি শিশু সদনগুলোকে আরও উন্নত ও শিশুবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ সময় তিনি শিশুদের প্রতি আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেন। পরিদর্শনকালে শিশুদের আবাসন, খাবারের মান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন মন্ত্রী।

এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এডওয়ার্ড স্কুলের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে যাওয়ার কথা থাকলেও মন্ত্রী আকস্মিকভাবে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিটের ঝটিকা পরিদর্শনে বিভিন্ন অনিয়ম তাঁর নজরে আসে। কার্যালয়ের ফিজিওথেরাপি বিভাগের সামনে ‘ক্লিনিক্যাল ফিজিওথেরাপিস্ট ডা. শরীফ আহমেদ আওয়াল’ ও ‘ডা. গোলাম মোস্তফা’ নামে দুটি নেমপ্লেট দেখে তিনি তাৎক্ষণিক তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি চাকরিতে থেকে এই নিয়ম না জানা দুঃখজনক।

এর পর ফিজিওথেরাপি কক্ষে প্রবেশ করে এক কর্মচারীকে রোগীর শয্যায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখে মন্ত্রী আরও ক্ষুব্ধ হন। তিনি তাৎক্ষণিক ওই কর্মচারীকে জেরা করে বলেন, ‘আপনি এখানে কী করছেন? আপনি কি মোবাইল ফোনে জুয়া খেলছেন? আপনাদের কি কেউ তদারকি করে না? এখানকার ডিডি কোথায়?’
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়টি এই কমপ্লেক্সে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বর্তমান বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা ভাড়া গুনতে হয়। তাই জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্সের দুটি কক্ষ গেস্ট হাউস হিসেবে রেখে বাকি অংশে বিভাগীয় কার্যালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এডওয়ার্ড স্কুলের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হোস্টেল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাজু আহমেদ, ড্যাব নেতা ডা. মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন শাকিল প্রমুখ।
 

আরও পড়ুন

×