ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

বন্ধ হচ্ছে শহরের রেলপথ

বন্ধ হচ্ছে শহরের রেলপথ
×

 বগুড়া ব্যুরো 

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

বগুড়া মহানগরীর যানজট নিরসন এবার প্রস্তাব করা হয়েছে মেগা প্রকল্পের। প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে নগরের মাঝখানের রেলপথ বন্ধ করে নগরের বাইরে দিয়ে রেলপথ স্থাপন এবং রেলস্টেশনকে দূরপাল্লার বাস টার্মিনালে রূপান্তর করা। এ প্রস্তাবের আলোকে রেলপথ কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই বাছাই করছেন। এরপর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ১ জুন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি আধাসরকারি (ডিও) চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁর ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিও চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। এ পথে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং রয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় এসব ক্রসিং বন্ধ থাকায় শহরের প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং জরুরি সেবাও ব্যাহত হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত স্থাপন হতে যাওয়া রেলপথের বগুড়া অংশের রাণীরহাট জংশন থেকে গাবতলী রেলস্টেশন পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হলে বগুড়া শহরের ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচলের প্রয়োজন থাকবে না। একই সঙ্গে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের ভেতরের বিদ্যমান রেলপথ অপসারণ করে সেই করিডোরকে গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত চার লেন সড়কে উন্নীত করার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া রেলস্টেশন সংস্কার করে সেখানে রেলস্টেশনের পরিবর্তে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকার কোচ টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।
গত ২৪ মে বগুড়া সিটি করপোরেশনে উন্নয়ন ও সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় যানজটকে সবচেয়ে প্রধান্য দেওয়া হয়। ওই সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছিলেন, নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি রেল ক্রসিংগুলোয় ওভারপাস নির্মাণ করে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান।
প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। তবে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
নগরের ২ নম্বর রেলঘুন্টির বেরিয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ২২টি ট্রেন চলাচল করে এ রেলপথে। আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য ৬ মিনিট ও লোকাল ট্রেনের জন্য ১০ মিনিট করে বেরিয়ার ফেলে রাখতে হয়। তাতে করে রাস্তার দুপাশে যানজট তৈরি হয়।
সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, এটা যুগান্তকারী প্রদক্ষেপ হবে। সেক্ষেত্রে রেলক্রসিং ও ওভারপাসের আর প্রয়োজন হবে না। এটি বাস্তবায়ন হলে নগরে আর যানজটের প্রভাব পড়বে না।

আরও পড়ুন

×