মেয়াদ শেষে অর্ধেক কাজও হয়নি, বেহাল সড়কে দুর্ভোগ
চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়ক। ফুলবাড়ীর শাহবাজার এলাকা থেকে তোলা সমকাল
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদর-কাঁঠালবাড়ী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পিচ উঠে ও ছোট-বড় গর্তের কারণে প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির বেহাল অবস্থা। চলতি বছরের শুরুতে জরুরি ভিত্তিতে মাত্র চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর। কিন্তু মেয়াদ শেষে মাত্র ৪০ শতাংশ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ধীরগতির সংস্কারে চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পল্লি সড়ক ও কালভার্ট মেরামত (জিওবিএম) কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়ী-কাঁঠালবাড়ী সড়কে নাওডাঙ্গা পুলেরপাড় বাজার থেকে বড়ভিটা বাজারের কাছাকাছি পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কারে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। গত ১৯ জানুয়ারি দুই কোটি ছয় লাখ টাকার এই প্রকল্পরের কার্যাদেশ দেওয়া হয় কুড়িগ্রাম সদরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফ এইচ ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপকে। চুক্তি অনুযায়ী সড়ক সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা গত ২৪ মে। মেয়াদ শেষ হলেও সড়কের মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে। কবে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারও ধারণা নেই। এ কারণে হতাশ এলাকাবাসী।
স্থানীয় বড়ভিটা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শরিফুল আলম ও মাছ চাষি সিদ্দিক মিয়া জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় সড়কটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। তখন থেকে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। পরে ২০১৯ সালে সড়কটির অনেকটা দায়সারা সংস্কার কাজ করে স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর। সংস্কার কাজ শেষ করার কিছুদিন যেতে না যেতেই সড়কটিতে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন পর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ধীরগতিতে সংস্কার কাজ চলায় এলাকাবাসী ও পথচারীর দুর্ভোগ বেড়েছে।
বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিন্টু জানান, চার কিলোমিটার রাস্তার কয়েক মাস আগে পিচ তুলে ফেলা হয়েছে। এরপর সড়কে পাথর ও ইটের খোয়া ফেলে রোলিং করা হয়। তবে টানা বৃষ্টিতে সড়কজুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইচ্ছে করে সড়কের সংস্কার কাজ ফেলে রাখা হয়নি। কাজ শুরুর পর থেকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।’
উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- সড়ক
