মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লু ছড়ানো নিয়ে যে পূর্বাভাস দিলেন বিজ্ঞানীরা
বার্ড ফ্লু মানুষের মধ্যে ছড়ানো নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন ভারতের বিজ্ঞানীরা। প্রতীকী ছবি
বিবিসি
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৮:২২
বছরের পর বছর ধরে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন, বার্ড ফ্লু (এইচ৫এন১ নামে বেশি পরিচিত) একদিন পাখি থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়ে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এভিয়ান ফ্লু (ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি ধরন) দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান। ১৯৯০ এর দশকের শেষ দিকে চীনে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এটি কিছু ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ২০০৩ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ২৫টি দেশে এইচ৫এন১ আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৯৯০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৪৭৫ জন মারা গেছেন।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয় ১৮ কোটির বেশি পাখি। ছড়িয়ে পড়ে ১৮টি অঙ্গরাজ্যের এক হাজারের বেশি দুগ্ধ খামারে এবং অন্তত ৭০ ব্যক্তি সংক্রমিত হন। যাদের বেশিরভাগই খামারকর্মী। কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে এবং একজন মারা গেছেন।
মানুষের ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো ফ্লুর মতোই দেখায়। যেমন- উচ্চ মাত্রার জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা এবং কখনো কখনো চোখের কনজাংটিভাইটিস। আবার কোনো ক্ষেত্রে উপসর্গ নাও থাকতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকি এখনো তুলনামূলকভাবে কম। ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগে ভাইরাসটির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না তা বুঝতে গবেষকরা নিবিড়ভাবে এইচ৫এন১ পর্যবেক্ষণ করছেন।
ভারতের অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফিলিপ চেরিয়ান ও গৌতম মেনন নতুন একটি গবেষণা করেছেন। এতে দেখানো হয়েছে, মানুষের মধ্যে এইচ৫এন১ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হতে পারে এবং এর বিস্তার শুরুতেই থামিয়ে দেওয়ার উপায়। গবেষণাটি প্রকাশ হয়েছে বিএমসি পাবলিক হেলথ জার্নালে।
বিবিসিকে অধ্যাপক গৌতম মেনন বলেন, মানুষের মধ্যে এইচ৫এন১ মহামারির ঝুঁকি আর অবাস্তব নয়। তবে উন্নত নজরদারি এবং আরো দ্রুতগতির জনস্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে সেটি ঠেকানো যেতে পারে।
গবেষকদের মতে, বার্ড ফ্লু মহামারি শুরু হবে নীরবে- একটি সংক্রমিত পাখি থেকে একজন মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে। সেই ব্যক্তি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি কোনো কৃষক, বাজারের কর্মী বা পোলট্রি খামারের কেউ। মানুষ থেকে মানুষে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে কি না- সেটির ওপর মূল ঝুঁকি নির্ভর করছে।
অনুমানের ভিত্তিতে গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, মানুষ থেকে মানুষে আক্রান্তের সংখ্যা আনুমানিক দুই থেকে ১০ এর বেশি হলে রোগটি প্রাথমিক ও গৌণ সংস্পর্শের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রাথমিক সংস্পর্শ বলতে বোঝায়, যারা সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি ও ঘনিষ্ঠভাবে সংস্পর্শে ছিলেন। যেমন- পরিবারের সদস্য, পরিচর্যাকারী বা ঘনিষ্ঠ সহকর্মী। গৌণ সংস্পর্শ হলো, যারা সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি দেখা না করলেও কোনো প্রাথমিক সংস্পর্শের ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে ছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র দুটি সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার সময়ই যদি প্রাথমিক সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখা যায়, তাহলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে সংক্রমণের সংখ্যা যখন ১০ এ পৌঁছে যায়, তখন প্রায় নিশ্চিতভাবেই ধরে নিতে হবে- ভাইরাসটি ইতোমধ্যে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়েছে।
- বিষয় :
- বার্ড ফ্লু
- সংক্রমণ
- মানুষ সুরক্ষা
- গবেষণা
- স্বাস্থ্য
