ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিশুর চোখের ট্যারা ভাব কারণ ও প্রতিকার

শিশুর চোখের ট্যারা ভাব কারণ ও প্রতিকার
×

 ডা. আহসান কবির

প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

জন্মগত বা পরবর্তী বিভিন্ন জটিলতার কারণে শিশুর চোখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে ‘ট্যারা চোখ’ অন্যতম। অনেক অভিভাবক একে ‘লক্ষ্মী ট্যারা’ বলে অবহেলা করেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভুল। এটি কোনো সৌভাগ্যের লক্ষণ নয়; বরং একটি দৃষ্টিগত সমস্যা, যা সময়মতো চিকিৎসা না করলে স্থায়ী অন্ধত্ব বা মানসিক হীনমন্যতার কারণ হতে পারে।
ট্যারা চোখ আসলে কী?

স্বাভাবিক অবস্থায় কোনো বস্তুর দিকে তাকালে আমাদের দুটি চোখের মণি বা কালো অংশ সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। যদি চোখের মণি দুটি ভিন্ন দিকে নির্দেশ করে (একটি সোজা থাকলে অন্যটি ভেতরে, বাইরে, ওপরে বা নিচে হেলে থাকে), তবে তাকে ট্যারা চোখ বলা হয়।

চোখ ট্যারা হওয়ার প্রধান কারণ
চোখকে ডানে-বাঁয়ে বা ওপরে-নিচে ঘোরানোর জন্য প্রতিটি চোখের চারপাশে ছয়টি মাংসপেশি থাকে। এই পেশিগুলোর সমন্বয়হীনতাই ট্যারা হওয়ার মূল কারণ। এর পেছনে আরও কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ থাকতে পারে:
স্নায়বিক ত্রুটি: মস্তিষ্কের ৩, ৪ ও ৬ নম্বর ক্রেনিয়াল নার্ভ যদি চোখের পেশিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।
দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি: দীর্ঘদিনের ঝাপসা দৃষ্টি বা চোখের পাওয়ারের সমস্যার কারণে শিশু চোখ বাঁকা করে দেখার চেষ্টা করলে ট্যারা ভাব আসতে পারে।
বংশগত কারণ: পরিবারে মা-বাবা কিংবা নিকটাত্মীয়ের এ সমস্যা থাকলে শিশুর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অসুখ ও আঘাত: মস্তিষ্কে টিউমার, মাথায় গুরুতর আঘাত, রেটিনার সমস্যা কিংবা লেন্সের ছানি বা ঘোলাটে ভাব থাকলে এমন হতে পারে।
অন্যান্য: উচ্চ মাত্রার জ্বর বা শরীরের বিপাকীয় কোনো রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও এটি দেখা দিতে পারে।

অভিভাবকদের করণীয় ও চিকিৎসা
শিশুর জন্মের পর থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত তার চোখের মুভমেন্ট নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। যদি কোনো অসামঞ্জস্য দেখা দেয়, তবে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

চিকিৎসা পদ্ধতি
চশমা ও ব্যায়াম: অনেক ক্ষেত্রে বিশেষ পাওয়ারের চশমা বা চোখের ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশির দুর্বলতা কাটিয়ে তোলা সম্ভব। 
প্যাচিং থেরাপি: ভালো চোখটি সাময়িকভাবে ঢেকে রেখে দুর্বল চোখটিকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। একে ‘অ্যাম্বলাইওপিয়া’ বা অলস চোখের চিকিৎসা বলা হয়। 
অস্ত্রোপচার: ড্রপ বা চশমায় কাজ না হলে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এটি অত্যন্ত সাধারণ এবং নিরাপদ একটি পদ্ধতি।

মনে রাখা জরুরি
শিশুর চোখের যাবতীয় সংশোধন সাধারণত পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে করে নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর। সময়মতো চিকিৎসা না করালে শিশু সামাজিকভাবে হীনমন্যতায় ভুগতে পারে এবং তার দ্বিমাত্রিক বা ত্রিমাত্রিক দৃষ্টির ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
লেখক: চক্ষু বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন

×