ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কিডনি সুস্থ রাখতে যে বিষয় জানা জরুরি

কিডনি সুস্থ রাখতে যে  বিষয় জানা জরুরি
×

 ডা. সায়েদা নাসরিন

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

কিডনি মানবদেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধন, বর্জ্য অপসারণ এবং শরীরের তরল ও লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে। কিডনি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক সময় রোগী তা বুঝতে পারেন না। ফলে দেরিতে ধরা পড়লে চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে। অপর্যাপ্ত পানি পান কিডনি রোগের একটি বড় ঝুঁকি। দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করলে কিডনি সহজে 
বর্জ্য অপসারণ করতে পারে। তবে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনি বিকলের প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব রোগ নিয়মিত নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার কিডনির জন্য ক্ষতিকর। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত পেইনকিলার গ্রহণ কিডনি বিকলের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে ভেষজ বা হারবাল ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রস্রাবে জ্বালা, ফেনা, রক্ত আসা, শরীর ফোলা বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত। নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অবস্থা জানা যায়। সচেতন জীবনযাপন ও সময়মতো চিকিৎসাই কিডনি সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

অতিরিক্ত অংশ
কিডনির সুস্থতা পরিমাপের একটি প্রধান সূচক হলো জিএফআর বা গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানেই কিডনি তার ছাঁকন ক্ষমতা হারাচ্ছে। কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রোটিন বা আমিষজাতীয় খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলা উচিত। কারণ, অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। প্রস্রাবের সংক্রমণ বা (ইউটিআই) বারবার হলে তা থেকে স্থায়ীভাবে কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সচেতনতা জরুরি। এ ছাড়া সফট ড্রিংকস বা অতিরিক্ত কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় কিডনিতে পাথর তৈরির সহায়ক হতে পারে। কিডনি রোগ অনেক সময় বংশগত কারণেও হতে পারে। তাই পরিবারে এ রোগের ইতিহাস থাকলে বছরে অন্তত একবার রুটিন 
চেকআপ করানো উচিত। মনে রাখবেন, কিডনি প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত অনেক সময় বাইরে থেকে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তাই আগাম সতর্কতাই শ্রেষ্ঠ প্রতিকার।
লেখক: নেফ্রোলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন

×