ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে প্রতারণা

শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি

কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে প্রতারণা
×

ছবি: সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ০৯:০১ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ১২:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের নকল ওয়েবসাইট বানিয়ে সে দেশে কিডনি রোগী পাঠিয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গত বুধবার রাজধানীর গুলশান ও আগারগাঁও এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। 

গ্রেপ্তাররা হলেন– চক্রের হোতা নুরুজ্জামান রাজু, মাসুম বিল্লাহ, মোহাম্মদ তরিকুল, সালমান ফারসি ও ওয়ালিদ মিয়া। চক্রটি প্রায় শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে র‌্যাব-৪ সিপিসি-১ এর কোম্পানি কমান্ডার কে এন রায় নিয়তি বলেন, কয়েক দিন আগে নিরব নজরুল লিখন নামে একজন অভিযোগ করেন, তিনি এই চক্রের মাধ্যমে তাঁর মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তুরস্কে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে চক্রের হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলার এজাহার ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নজরুল লিখন একজন ব্যবসায়ী। তিনি জনৈক দেলোয়ারের মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে পরিচিত হন। চক্রের সদস্যরা জানায়, তুরস্কের ‘টার্কিশডক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি এজেন্ট তারা। সেখানকার একটি হাসপাতালে তারা ২৩ হাজার ডলারে কিডনি প্রতিস্থাপন করে থাকে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন ভুক্তভোগী। সেই অনুযায়ী গত নভেম্বরে দেশেই নগদ পাঁচ লাখ টাকা দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন কাগজপত্র সত্যায়নের জন্য তারা আরও দুই লাখ টাকা নেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ভুক্তভোগী তুরস্কে যান এবং সেখানে টার্কিশডকের এজেন্ট পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি তাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। এরপর কিডনি ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত ২৩ হাজার ডলার ছাড়াও অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার দিতে বাধ্য করা হয়। টাকা দেওয়ার পরও চক্রের সদস্যরা তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে বলেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাবে না এবং তাঁকে দেশে ফিরতে হবে। নইলে সেখানকার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করবে। পরবর্তী সময়ে তারা দেশে চলে আসেন। কিন্তু চক্রের সদস্যদের কাছে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন নয়তো টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বললে তাদের ভয় দেখানো হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠান টার্কিশডকের ওয়েবসাইট অবিকল নকল করে টার্কিশডক বিডি নামে ওয়েবসাইট খোলে। তারা কিডনি প্রতিস্থাপন, আইভিএফসহ বিভিন্ন রোগীকে তুরস্কে পাঠিয়ে দেশে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করে আসছিল। এই চক্রের মাধ্যমে তুরস্কে গিয়ে প্রতারণার শিকার কয়েকজন কারাবাস করছেন। তাদের টাকা দিয়ে প্রতারিত হওয়ার আরও কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। 

আরও পড়ুন

×