অতিরিক্ত লবণে হৃদরোগের ঝুঁকি
কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
লবণ আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের একটি অপরিহার্য উপাদান। এতে প্রায় ৪০ শতাংশ সোডিয়াম এবং ৬০ শতাংশ ক্লোরাইড থাকে। শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সোডিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা, স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখা, পুষ্টি উপাদান শোষণ এবং মাংসপেশির কার্যক্রম ঠিক রাখতে সোডিয়ামের প্রয়োজন হয়।
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য নির্ধারিত মাত্রার বেশি লবণ গ্রহণ বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই খাদ্যে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে হলে প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের কম লবণ গ্রহণ করা উচিত। পাঁচ গ্রাম লবণে প্রায় দুই গ্রাম সোডিয়াম থাকে। ডায়াবেটিক বা কিডনির রোগ থাকলেও একই মাত্রা অনুসরণ করা উচিত। যাদের এসব সমস্যা নেই তারা সর্বোচ্চ ২৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম গ্রহণ করতে পারেন। এক টেবিল চামচ লবণে প্রায় ২৪০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে, তাই সারাদিনে এক টেবিল চামচের চেয়ে অনেক কম লবণ খাওয়া উচিত।
খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ থাকলে রক্তে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়। কিডনি তখন অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে সেই পানি রক্তনালিতেই থেকে যায় এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে শরীরে পানি জমে যাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়।
অনেকে মনে করেন লবণ ভেজে খেলে তাতে ক্ষতিকর কিছু থাকে না। বাস্তবে লবণ ভাজলেও এর সোডিয়াম ক্লোরাইডের গঠন পরিবর্তিত হয় না। তাই ভাজা লবণও সমানভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। বিকল্প লবণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। যাদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদরোগ আছে, তাদের জন্য এসব বিকল্প লবণও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লবণ গ্রহণ করা উচিত।
লেখক: মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্ট, সিএমএইচ, ঢাকা
- বিষয় :
- লবণ
