দীর্ঘক্ষণ বসে কাজের ফলে ‘অফিস সিনড্রোম’
ডা. মোহাম্মদ আলী
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বসবাসকারী কর্মজীবীরা সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয় দিন, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সাত দিন পর্যন্ত অফিস করেন। তাদের মধ্যে অনেকেই প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় কাটান অফিসে বসে কাজ করে। বাংলাদেশের ব্যাংকারদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে বসে কাজ করেন, তাদের ঘাড়, কোমর, হাঁটু এবং কাঁধে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এ অবস্থাকেই সাধারণভাবে ‘অফিস সিনড্রোম’ বলা হয়।
আধুনিক জীবনে আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের বড় অংশই চেয়ার-টেবিল বা কম্পিউটার ও মোবাইলের সামনে বসে কাটে। এর ফলে শরীরের মাংসপেশি ও হাড়ে ধীরে ধীরে জড়তা তৈরি হয়। একইসঙ্গে সূর্যালোকের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দেয়; যা হাড়কে দুর্বল করে। দীর্ঘ সময় স্থির অবস্থায় থাকার ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সেই ক্লান্তি ব্যথার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। হাড়ের ক্ষয় ও মাংসপেশির দুর্বলতা ক্রমেই বাড়তে থাকে।
আগে ধারণা ছিল, ভারী কাজ করা বা অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদেরই এসব ব্যথা বেশি হয়। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে কাজ করাই ব্যথার প্রধান কারণ।
সমাধানের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন। প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত এক মিনিটের জন্য হলেও উঠে দাঁড়ানো বা নড়াচড়া করা জরুরি। হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যায়। অফিসে বসেই করা যায় এমন কিছু ব্যায়াম জানা থাকাও প্রয়োজন। যারা ইতোমধ্যে ব্যথায় ভুগছেন, তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শারীরিক নড়াচড়া বাড়ানোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দৈনন্দিন যাতায়াতের কিছু অংশ হেঁটে গেলে শরীর ও মন উভয়ই ভালো থাকে। পাশাপাশি অবসর সময়ে ভ্রমণ, সাঁতার, দৌড়ানো বা হাইকিংয়ের মতো শারীরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং সূর্যের আলো থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-ডি পাওয়া যায়।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাব বিভাগ, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা
- বিষয় :
- ব্যথা
