ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বারবার ঢেকুর ওঠার কারণ ও প্রতিকার

বারবার ঢেকুর ওঠার  কারণ ও প্রতিকার
×

ছবি- এআই দিয়ে তৈরী।

 নাফিসা আবিদীন

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ০৭:৪৮ | আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বারবার বা অতিরিক্ত ঢেকুর ওঠা কেবল একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি নয়, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে। পাকস্থলীতে আলসার কিংবা এসিড রিফ্লাক্সের মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে প্রায়ই অতিরিক্ত ঢেকুর উঠতে দেখা যায়। এর ফলে বুকের ভেতর এক ধরনের অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া তৈরি হয়। মূলত জীবনযাত্রার অনিয়ম এবং কিছু শারীরিক জটিলতা এর পেছনে দায়ী থাকে।

খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা
খাদ্যাভ্যাসের কারণে ঢেকুর ওঠার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যেমন–

  • অতিরিক্ত মসলাদার ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়া।
  • স্থূলতা বা শরীরের অতিরিক্ত ওজন।
  • পেঁয়াজ, টমেটো, টকজাতীয় ফল এবং কৃত্রিম চিনিমিশ্রিত খাবার গ্রহণ করা।
  • যে কোনো খাবার বা পানীয় অতিরিক্ত মাত্রায় বা ভরপেট খাওয়া।
  • খাওয়ার সময় অতিরিক্ত তাড়াহুড়া করা।
  • চুইংগাম চিবানো কিংবা শক্ত লজেন্স চুষে খাওয়ার সময় খাদ্যনালিতে বাতাস ঢুকে যাওয়া।
  • ধূমপানের সময় ফুসফুসে ধোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেটেও বাতাস প্রবেশ করা।

শারীরিক ও মানসিক কারণ
অনেক সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা বা নির্দিষ্ট কিছু রোগের কারণেও বারবার ঢেকুর ওঠে।

অন্ত্রনালির সমস্যা
অন্ত্রনালি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা সেখানে কোনো সংক্রমণ থাকলে বারবার ঢেকুর উঠতে পারে।

পাকস্থলীর জটিলতা
বদহজম, গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ এবং হায়াটাস হার্নিয়ার মতো রোগে পাকস্থলী থেকে খাবার বা অম্ল ওপরের দিকে উঠে আসে, যা ঢেকুর তৈরির প্রধান কারণ।

আইবিএস
ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকভাবে ঢেকুর ওঠার প্রবণতা দেখা দেয়।

মানসিক চাপ
অবাক করার মতো হলেও সত্যি, অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কারও কারও ক্ষেত্রে ঢেকুর ওঠার সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বারবার ঢেকুর ওঠার এই উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা এর সঙ্গে বুক জ্বালাপোড়া ও পেটে ব্যথা থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিসক।

আরও পড়ুন

×