ভিটামিনের ঘাটতি ও রোগ
ডা. নাফিসা আবেদীন
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
আপনি কি ইদানীং ঘন ঘন সবকিছু ভুলে যাচ্ছেন? অনেকে হয়তো এটিকে ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক উপসর্গ ভেবে ভয় পান, কিন্তু এটি আসলে ভিটামিন বি১২-এর অভাবও হতে পারে। ভিটামিন বি১২ মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান, যা আমাদের রক্তের গঠন ও স্নায়ুতন্ত্রকে সঠিকভাবে সচল রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু আমাদের মানবদেহ এই ভিটামিন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করতে পারে না। ফলে শরীরকে পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় সঠিক খাবার কিংবা ফুড সাপ্লিমেন্টের ওপর। বিশেষ করে যারা নিরামিষাশী, তাদের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। কারণ, এটি উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না। ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি শনাক্ত করতে অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। কারণ, এর উপসর্গগুলো অনেকটাই ডিমেনশিয়ার সঙ্গে মিলে যায়।
এই ঘাটতি আপনার শরীরে কীভাবে প্রভাব ফেলে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
প্রথমত, কোনো বিষয়ে ঘন ঘন সংশয় বা বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া ভিটামিন বি১২-এর অভাবের লক্ষণ হতে পারে। এই ভিটামিন শরীরে অক্সিজেন সরবরাহকারী লোহিত রক্তকণিকাকে সক্রিয় রাখে। এর অভাবে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে মানুষ মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, অকারণে মুড অফ হয়ে যাওয়া বা মন খারাপ থাকা এই ভিটামিনের ঘাটতির বড় কারণ। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে তা বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে রূপ নিতে পারে। কারণ, ভিটামিন বি১২-এর অভাব শরীরে হোমোসিস্টিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা মস্তিষ্কের টিস্যুকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম। তৃতীয়ত, কোনো কিছুতেই মন বসাতে না পারা বা মনোযোগের অভাব দেখা দেওয়া ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির বহিঃপ্রকাশ। কোনো কাজ শুরু করলেও তাতে মনঃসংযোগ ধরে রাখতে না পারা বা কাজ শেষ করার সামর্থ্য কমে যাওয়া এই অভাবেরই লক্ষণ। চতুর্থত, কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে ফেলা বা হুটহাট ছোটখাটো জিনিস ভুলে যাওয়া ডিমেনশিয়ার লক্ষণ নাও হতে পারে। নিয়মিত এমনটা ঘটলে বুঝতে হবে শরীরে পুষ্টির অভাব রয়েছে।
কী করবেন? শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এ ছাড়া ত্বক ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, সারাক্ষণ দুর্বল বোধ করা কিংবা আচমকা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলেও সতর্ক হতে হবে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি রয়েছে কিনা, তা শনাক্ত করা যায়। রিপোর্ট পজিটিভ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকা ও ফুড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব।
লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
- বিষয় :
- ভিটামিন
