ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পানের ক্ষতি ও সতর্কতা

অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পানের ক্ষতি ও সতর্কতা
×

 ডা. খাজা নাজিমউদ্দীন

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে বাইরে থেকে ঘরে ফিরেই অনেকের প্রথম কাজ হয় ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান করা। তীব্র গরমে এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও অভ্যাসটি দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যধিক ঠান্ডা পানি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

প্রথমত, গরম থেকে ফিরে হঠাৎ খুব ঠান্ডা পানি পান করলে গলার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এতে গলার সংক্রমণ, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খাবারের পর ঠান্ডা পানি পান করলে শ্বাসনালিতে মিউকাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা সংক্রমণকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ঠান্ডা পানি দ্রুত তৃষ্ণা মেটালেও শরীরের প্রকৃত পানির চাহিদা পূরণ হয় না। ফলে অজান্তেই পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এই পানিশূন্যতা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত করে এবং ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো সমস্যার সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি হৃদযন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বরফ-ঠান্ডা পানি ‘ক্রেনিয়াল’ স্নায়ুর কার্যকারিতা কমিয়ে হৃদস্পন্দনের হার হ্রাস করতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
হজমের ক্ষেত্রেও ঠান্ডা পানির প্রভাব নেতিবাচক। এটি পাকস্থলীর রক্তনালি সংকুচিত করে হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। ফলে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় না এবং গ্যাস্ট্রিক বা অস্বস্তির সমস্যা দেখা দেয়।
ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও ঠান্ডা পানির একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এটি শরীরের মেদ গলানোর প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং ফ্যাট জমার প্রবণতা বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দাঁতের জন্যও ক্ষতিকর। দাঁতে শিরশিরানি, ব্যথা এবং মাড়ির সমস্যা তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন এ অভ্যাস থাকলে দাঁতের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গরমে স্বস্তি পেতে ঠান্ডা পানি পান করলেও তা যেন অতিরিক্ত না হয়। স্বাভাবিক বা হালকা ঠান্ডা পানি পান করাই শরীরের জন্য নিরাপদ এবং উপকারী।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

আরও পড়ুন

×