দেশে প্রতি ১৩ জনে ১ জন নারীর অকালে মেনোপজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে প্রতি ১৩ জন নারীর মধ্যে অন্তত একজনের ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের আগেই স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বিএমজে পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণাটি ৪৪টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী সাত লাখ ১৬ হাজার ৬৪৮ নারীর জাতীয় ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (ডিএইচএস) তথ্য খতিয়ে দেখেছে। তাতে দেখা যায়, বিশ্বে প্রতি ১৪ জনে একজন নারীর অকাল মেনোপজ হয়।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অকালে মেনোপজ হচ্ছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ নারীর। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে এই হার কিছু বেশি; ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার সবচেয়ে বেশি ভারতে; ৮ শতাংশ। এরপর নেপালে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ নারীর অকাল মেনোপজ ঘটছে।
গবেষণাটি জানাচ্ছে, শহরের তুলনায় গ্রামের নারীদের অকাল মেনোপজের ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের মেনোপজ হয়। ৪৫ বছরের আগে স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হলে তাকে আর্লি মেনোপজ এবং ৪০ বছরের আগে হলে প্রিম্যাচিউর মেনোপজ বলা হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক ও আইসিডিডিআর,বির গবেষক রাইসা বিনতে ইসলাম বলেন, ‘অকাল মেনোপজ শুধু জৈবিক কারণের ফল নয়। কম শিক্ষিত, গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী এবং অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তান জন্ম দেওয়া নারীরা ধারাবাহিকভাবে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।’
আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, ‘অকাল মেনোপজকে শুধু প্রজনন জীবনের একটি ধাপ হিসেবে দেখলে চলবে না। যেসব নারীর অকাল মেনোপজ হয়, তাদের হৃদরোগ, হাড়ক্ষয়, বিষণ্নতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে নারীর মেনোপজের বয়স সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া উচিত।’
- বিষয় :
- নারী